ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালের ইলিশ এখন ‘ভিআইপি’: পান্তা থাকলেও পাতে নেই রূপালি রাজা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৮ Time View
৬৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর মহিপুর -আলীপুরে ব্যাপক হারে বেড়েছে ইলিশের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরন কেন্দ্র আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারী বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারী সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মহিপুর -আলিপুর মৎস্য বাজারে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মন দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মন দরে। পাইকারী এ বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে। শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজার সহ জেলার সকল বাজারে আকাশ ছোয়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন ক্রেতারা। ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এদিকে তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারায়, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুল এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের দাম এখন আকাশ ছোয়া , জানিয়েছে মৎস্য আড়ৎ মালিকরা।
মহিপুর ভাই ভাই আড়দের বিক্রেতা মো শাহআলম হাওলাদার বলেন, সাগরে তেমন ইলিশ পড়ছে না,তার মধ্যে আবার সারাদেশে তৈলের সমস্যা। জেলেরা অনেকেই তৈলের সমস্যার কারনে সাগরে যেতে পারছেনা। আমাদের এখন মরার উপর খরারঘাঁ।একদিকে সাগরে মাছ পাইনা আরেক দিকে তৈলের সমস্যায় সাগরে যেতে পারছিনা, তারপর আবার ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
ইলিশ ক্রেতা আ: রহিম বলেন, আমি আজকে মহিপুরে ইলিশ মাছ কিনতে গিয়ে অবাক হয়ে গেছি,স্বর্নের দামের চেয়েও ইলিশের দাম বেশি।ইলিশের গায়ে মনেহয় আগুন লাগছে।আমি একটি দাম বলায় বিক্রেতে আমাকে বলে ঐ দামে ইলিশের আঁইশ নিতে পারেন।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না,তার মধ্যে আবার তৈল সংকট। বৈশাখের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই। তাই মৎস্য বাজারে মাছ না থাকায় ইলিশের দাম চড়া।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,পহেলা বৈশাখ বাংঙ্গালীজাতির ঐতিহ্য। বৈশাখকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রতিবছরই ইলিশের একটা চাহিদা থাকে।সেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই,তাই দামটা একটু বেশী।একদিকে সাগরে তেমন ইলিশ পরছেনা,আরেক দিকে তৈল সংকটে জেলেরাও তেমন সাগরে যেতে পারছেনা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বরিশালের ইলিশ এখন ‘ভিআইপি’: পান্তা থাকলেও পাতে নেই রূপালি রাজা

Update Time : ০১:৫০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
৬৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর মহিপুর -আলীপুরে ব্যাপক হারে বেড়েছে ইলিশের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরন কেন্দ্র আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারী বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারী সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মহিপুর -আলিপুর মৎস্য বাজারে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মন দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মন দরে। পাইকারী এ বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে। শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজার সহ জেলার সকল বাজারে আকাশ ছোয়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন ক্রেতারা। ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এদিকে তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারায়, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুল এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের দাম এখন আকাশ ছোয়া , জানিয়েছে মৎস্য আড়ৎ মালিকরা।
মহিপুর ভাই ভাই আড়দের বিক্রেতা মো শাহআলম হাওলাদার বলেন, সাগরে তেমন ইলিশ পড়ছে না,তার মধ্যে আবার সারাদেশে তৈলের সমস্যা। জেলেরা অনেকেই তৈলের সমস্যার কারনে সাগরে যেতে পারছেনা। আমাদের এখন মরার উপর খরারঘাঁ।একদিকে সাগরে মাছ পাইনা আরেক দিকে তৈলের সমস্যায় সাগরে যেতে পারছিনা, তারপর আবার ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
ইলিশ ক্রেতা আ: রহিম বলেন, আমি আজকে মহিপুরে ইলিশ মাছ কিনতে গিয়ে অবাক হয়ে গেছি,স্বর্নের দামের চেয়েও ইলিশের দাম বেশি।ইলিশের গায়ে মনেহয় আগুন লাগছে।আমি একটি দাম বলায় বিক্রেতে আমাকে বলে ঐ দামে ইলিশের আঁইশ নিতে পারেন।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না,তার মধ্যে আবার তৈল সংকট। বৈশাখের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই। তাই মৎস্য বাজারে মাছ না থাকায় ইলিশের দাম চড়া।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,পহেলা বৈশাখ বাংঙ্গালীজাতির ঐতিহ্য। বৈশাখকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রতিবছরই ইলিশের একটা চাহিদা থাকে।সেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তেমন ইলিশ নেই,তাই দামটা একটু বেশী।একদিকে সাগরে তেমন ইলিশ পরছেনা,আরেক দিকে তৈল সংকটে জেলেরাও তেমন সাগরে যেতে পারছেনা।