ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার ফুপাত ভাইয়ের বাড়ি ছিল টর্চার সেল, নির্যাতিত হয়েছেন অনেক কাউন্সিলর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৯ Time View
১০৩

অনলাইন ডেক্স : আওয়ামী লীগ আমলে বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার প্রাসাদসম সেরনিয়াবাত ভবন থেকেই তখন পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো।

 

শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নয়, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আসীন হওয়ার পর এই বাড়ি ব্যবহৃত হতো নগর ভবন হিসেবেও। এমনকি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে জানা যাচ্ছে।

 

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ‘সেরনিয়াবাত ভবনে কবর হয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল বহু রাজনৈতিক নেতার ভবিষ্যৎ। যারা প্রভুভক্ত ছিলেন, কেবল তাদেরই ভাগ্য খুলেছে এই ভবন থেকে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পর্যন্ত এখানে বেচাবিক্রি হতো বলেও অভিযোগ তাদের।

 

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘টর্চার সেল হিসাবেও ব্যবহার হতো এই বাড়ি। আওয়ামী আমলে এখানে মারধরের শিকার হয়েছেন একাধিক কাউন্সিলর। একবার সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এই ভবনে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পাশের একটি ক্লাবে রেখে কয়েক দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হলে যেতে দেওয়া হয় বাড়ি।

 

সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, পুরো পরিবারটি চলত রাজকীয় স্টাইলে। চাইলেই হাসানাত বা সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা করা যেত না। কেবল তারা চাইলেই মিলত দেখা।

 

৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর সেই প্রতাপশালী বাড়ি পরিণত হয়েছে ভূতুড়ে এক জায়গায়। বাতি জ্বলে না বহু দিন। সেখানে এখন গজিয়েছে জঙ্গল, যা পরিষ্কারের মানুষও নেই। স্থানীয়রা জানান, সেই বাড়ি এখন শিয়াল-কুকুরের আবাসে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

হাসিনার ফুপাত ভাইয়ের বাড়ি ছিল টর্চার সেল, নির্যাতিত হয়েছেন অনেক কাউন্সিলর

Update Time : ০৪:১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
১০৩

অনলাইন ডেক্স : আওয়ামী লীগ আমলে বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার প্রাসাদসম সেরনিয়াবাত ভবন থেকেই তখন পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো।

 

শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নয়, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আসীন হওয়ার পর এই বাড়ি ব্যবহৃত হতো নগর ভবন হিসেবেও। এমনকি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে জানা যাচ্ছে।

 

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ‘সেরনিয়াবাত ভবনে কবর হয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল বহু রাজনৈতিক নেতার ভবিষ্যৎ। যারা প্রভুভক্ত ছিলেন, কেবল তাদেরই ভাগ্য খুলেছে এই ভবন থেকে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পর্যন্ত এখানে বেচাবিক্রি হতো বলেও অভিযোগ তাদের।

 

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘টর্চার সেল হিসাবেও ব্যবহার হতো এই বাড়ি। আওয়ামী আমলে এখানে মারধরের শিকার হয়েছেন একাধিক কাউন্সিলর। একবার সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এই ভবনে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পাশের একটি ক্লাবে রেখে কয়েক দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হলে যেতে দেওয়া হয় বাড়ি।

 

সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, পুরো পরিবারটি চলত রাজকীয় স্টাইলে। চাইলেই হাসানাত বা সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা করা যেত না। কেবল তারা চাইলেই মিলত দেখা।

 

৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর সেই প্রতাপশালী বাড়ি পরিণত হয়েছে ভূতুড়ে এক জায়গায়। বাতি জ্বলে না বহু দিন। সেখানে এখন গজিয়েছে জঙ্গল, যা পরিষ্কারের মানুষও নেই। স্থানীয়রা জানান, সেই বাড়ি এখন শিয়াল-কুকুরের আবাসে পরিণত হয়েছে।