
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনের কারণে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
.
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালেও আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের পরিচালকের কক্ষের দরজায় লাগানো তালা ও হাতল ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে উপ পরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
.
আন্দোলনকারীরা জানান, জুলাই আন্দোলন বিরোধী কথিত শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দেয়া ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে উপ পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভাগের স্বাস্থ্য প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই ‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা নবনিযুক্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরদিন সকালে ডা. মনিরুজ্জামান কার্যালয়ে এসে তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে একদল শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুরের দিকে তারা তাকে কার্যালয় ত্যাগের আহ্বান জানালে তিনি কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। এরপর আন্দোলনকারীরা পুনরায় তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
জানা গেছে, গত ৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরদিন থেকেই তার পদায়নের প্রতিবাদে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনে অংশ নেন।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতীতে ডা. মনিরুজ্জামান জুলাই বিরোধী শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তার পদায়ন বাতিলের দাবি উঠেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নানা অভিযোগের কারণে ডা. মনিরুজ্জামানকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছিল।
Reporter Name 



















