ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় ট্রলারডুবির তিন দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ছয় জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। জীবিত ফিরে আসার আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও স্বজনদের শেষ আকুতি অন্তত প্রিয়জনের মরদেহটি যেন ফিরে পান।

 

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও কয়েক মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জেলের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নিখোঁজরা হলেন- এমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন হাওলাদার (৪৫), ফোরকান সিকদার (৫৫), সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) ও মো. আক্কাস (২৫)।

 

নিখোঁজ আক্কাসের খালা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. ফারআনা জানান, আক্কাসের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। পরে গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামে নানাবাড়ির সুবাদে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ছয় বছর আগে রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের হানিফ মিয়ার মেয়ে প্রাপ্তিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আলভি নামে সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

 

স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব, ৬০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা এবং ভবিষ্যতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌযান কেনার স্বপ্ন থেকেই প্রথমবারের মতো গভীর সমুদ্রে শ্রমিক হিসেবে মাছ ধরতে যান আক্কাস।

 

গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আক্কাসের ভাড়া বাসায় এখন শোকের ছায়া। স্বামীর অপেক্ষায় বারবার ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী প্রাপ্তি।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অভাবের কারণে ঋণ শোধ করতেই ও সাগরে গিয়েছিল। ও ভালোভাবে সাঁতারও জানত না। প্রথমবারই গেল, আর ফিরল না। এখন শুধু চাই, অন্তত ওর লাশটা যেন ফিরে পাই।

 

ট্রলারডুবি থেকে জীবিত ফিরে আসা ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার বলেন, ‘ট্রলারে ১১ জন ছিল। ট্রলার উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। পরে কয়েকজন বের হতে পারলেও সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমরা পাঁচজন ভেসে প্রাণে বাঁচি। শেষবার আক্কাসকে উল্টে থাকা ট্রলারের কাছে দেখেছিলাম। এরপর আর তাকে দেখতে পাইনি।

 

এদিকে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তা আর শোকের মধ্যে। জীবিত ফিরে আসার আশা ক্ষীণ হলেও স্বজনদের প্রত্যাশা, অন্তত প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার হবে।

 

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গলাচিপায় ট্রলারডুবির তিন দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে

Update Time : ০১:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ছয় জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। জীবিত ফিরে আসার আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও স্বজনদের শেষ আকুতি অন্তত প্রিয়জনের মরদেহটি যেন ফিরে পান।

 

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও কয়েক মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জেলের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নিখোঁজরা হলেন- এমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন হাওলাদার (৪৫), ফোরকান সিকদার (৫৫), সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) ও মো. আক্কাস (২৫)।

 

নিখোঁজ আক্কাসের খালা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. ফারআনা জানান, আক্কাসের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। পরে গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামে নানাবাড়ির সুবাদে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ছয় বছর আগে রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের হানিফ মিয়ার মেয়ে প্রাপ্তিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আলভি নামে সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

 

স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব, ৬০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা এবং ভবিষ্যতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌযান কেনার স্বপ্ন থেকেই প্রথমবারের মতো গভীর সমুদ্রে শ্রমিক হিসেবে মাছ ধরতে যান আক্কাস।

 

গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আক্কাসের ভাড়া বাসায় এখন শোকের ছায়া। স্বামীর অপেক্ষায় বারবার ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী প্রাপ্তি।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অভাবের কারণে ঋণ শোধ করতেই ও সাগরে গিয়েছিল। ও ভালোভাবে সাঁতারও জানত না। প্রথমবারই গেল, আর ফিরল না। এখন শুধু চাই, অন্তত ওর লাশটা যেন ফিরে পাই।

 

ট্রলারডুবি থেকে জীবিত ফিরে আসা ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার বলেন, ‘ট্রলারে ১১ জন ছিল। ট্রলার উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। পরে কয়েকজন বের হতে পারলেও সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমরা পাঁচজন ভেসে প্রাণে বাঁচি। শেষবার আক্কাসকে উল্টে থাকা ট্রলারের কাছে দেখেছিলাম। এরপর আর তাকে দেখতে পাইনি।

 

এদিকে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তা আর শোকের মধ্যে। জীবিত ফিরে আসার আশা ক্ষীণ হলেও স্বজনদের প্রত্যাশা, অন্তত প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার হবে।

 

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।