ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে : প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View
১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আস্থা রাখতে চান।

 

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, জনগণ যাতে নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই এ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তাই পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তাঁদের কর্মকাণ্ডেই বাহিনীর দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও পিজিআরকে পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনে বাহিনীটি বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও সুশৃঙ্খল আচরণের পরিচয় দিয়েছে। তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান তিনি।

নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু পিজিআর নয়, সব বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ গঠিত হয়। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) রাখেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন ও এর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে নিহত পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ও তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে ঘণ্টেশ্বর মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া অসাধু চক্ররা

নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে : প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১১:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আস্থা রাখতে চান।

 

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, জনগণ যাতে নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই এ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। তাই পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তাঁদের কর্মকাণ্ডেই বাহিনীর দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও পিজিআরকে পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনে বাহিনীটি বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও সুশৃঙ্খল আচরণের পরিচয় দিয়েছে। তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান তিনি।

নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু পিজিআর নয়, সব বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ গঠিত হয়। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) রাখেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন ও এর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে নিহত পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ও তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।