ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লী বিদ্যুতের জুন মাসের বাড়তি বিলের ধকলে কলাপাড়ার গ্রাহকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল গেল মাসের চেয়ে দেড়গুন থেকে দুইগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গ্রাহকরা ভোগান্তির কবলে পড়েছেন।

 

তারা অভিযোগ করেছেন, মিটার না দেখে অনুমান নির্ভর এমন বিল করায় তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গ্রাকদের জিম্মি করে মিটার পরিদর্শকরা এমন ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন অধিকাংশ গ্রাহককে। তারা এর প্রতিকার চেয়েছেন। অধিকাংশ গ্রাহকের দাবি লোডশেডিং ছিল। গেল মাসের চেয়ে বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বিল দেওয়া হয়েছে মে মাসের চেয়ে দ্বিগুন, কোন কোন গ্রাহককে তিনগুন বেশি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ রয়েছেন। বহু গ্রাহককে ধার-দেনা করে জুন মাসের বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অধিকাংশের কাছে জুন মাসের বিদ্যুৎ বিলটি হয়েছে বইতে না পারার বোঝার মতো।

 

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব, কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসীন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানালেন, তার দুটি মিটারেই মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে। তিনি দেখালেন, একটি মিটারে জুন মাসে বিল দেওয়া হয়েছে, ৮০৫৫ টাকা, ৬৫০ ইউনিট। অথচ এই মিটারে গেল মাসে ইউনিট দেওয়া হয়েছে ৪২৫ ইউনিট। একইভাবে অপর মিটারে মে মাসে বিল দেওয়া হয় ৩১০ ইউনিট। যা এই মাসে দেওয়া হয়েছে ৪৫০ ইউনিট, ৪৬০৩ টাকা। তার দাবি মিটার না দেখেই রিডিং বসিয়ে দেয়া হয়েছে।  টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনীর বাসীন্দা মোঃ ফোরকান হাওলাদার জানালেন, তাঁদের ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেয়া হতো। কিন্তু শতাধিক পরিবার সবাইকে জুন মাসে দেড়-দুই গুন বেশি বিল দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বেশি বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করা কষ্ট হচ্ছে।

 

কুয়াকাটার বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদে দোকানি মোঃ জহির হোসেন জানালেন, তিনি ফি মাসে ৪০০-৪৫০ টাকার বিল দিতেন। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে শতকরা ৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের বিদ্যুৎবিল অনুমান নির্ভর করা হয়েছে। বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হয়েছে।  গ্রাহকের কমন অভিযোগ, জুন মাসে লোডশেডিং ছিল। ইউনিট কম ব্যবহার করেছেন। অথচ উল্টো বিলে ইউনিট দেড়-দুই গুন বেশি দেখিয়ে বিল দ্বিগুন করা হয়েছে। গ্রহকরা দাবি করেছেন মিটার না দেখে অন্তত গড়ে প্রত্যেক গ্রাহকের ৩০-১০০ ইউনিট বাড়িয়ে বিল করা হয়েছে। যাতে এখানকার ৯০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ ইউনিটের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হাতিয়ে নেয়ার কাজটি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যা টাকার অংকে অন্তত সাড়ে চার কোটি টাকা। গ্রাহকরা এর থেকে পরিত্রাণ চেয়েছেন।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কলাপাড়া জোনাল অফিসসূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীন ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন।

 

লোডশেডিং ছিল অথচ বিলে ইউনিট দেড় থেকে দুইগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, যে গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগে চাচার মৃত্যুদন্ড

পল্লী বিদ্যুতের জুন মাসের বাড়তি বিলের ধকলে কলাপাড়ার গ্রাহকরা

Update Time : ০১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বোঝায় ৯৪ হাজার গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। শতকরা ৭০-৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল গেল মাসের চেয়ে দেড়গুন থেকে দুইগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গ্রাহকরা ভোগান্তির কবলে পড়েছেন।

 

তারা অভিযোগ করেছেন, মিটার না দেখে অনুমান নির্ভর এমন বিল করায় তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গ্রাকদের জিম্মি করে মিটার পরিদর্শকরা এমন ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন অধিকাংশ গ্রাহককে। তারা এর প্রতিকার চেয়েছেন। অধিকাংশ গ্রাহকের দাবি লোডশেডিং ছিল। গেল মাসের চেয়ে বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বিল দেওয়া হয়েছে মে মাসের চেয়ে দ্বিগুন, কোন কোন গ্রাহককে তিনগুন বেশি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ রয়েছেন। বহু গ্রাহককে ধার-দেনা করে জুন মাসের বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অধিকাংশের কাছে জুন মাসের বিদ্যুৎ বিলটি হয়েছে বইতে না পারার বোঝার মতো।

 

গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব, কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকার বাসীন্দা গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু জানালেন, তার দুটি মিটারেই মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে। তিনি দেখালেন, একটি মিটারে জুন মাসে বিল দেওয়া হয়েছে, ৮০৫৫ টাকা, ৬৫০ ইউনিট। অথচ এই মিটারে গেল মাসে ইউনিট দেওয়া হয়েছে ৪২৫ ইউনিট। একইভাবে অপর মিটারে মে মাসে বিল দেওয়া হয় ৩১০ ইউনিট। যা এই মাসে দেওয়া হয়েছে ৪৫০ ইউনিট, ৪৬০৩ টাকা। তার দাবি মিটার না দেখেই রিডিং বসিয়ে দেয়া হয়েছে।  টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনীর বাসীন্দা মোঃ ফোরকান হাওলাদার জানালেন, তাঁদের ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার বিল দেয়া হতো। কিন্তু শতাধিক পরিবার সবাইকে জুন মাসে দেড়-দুই গুন বেশি বিল দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমজীবী পরিবারের পক্ষে এই বেশি বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করা কষ্ট হচ্ছে।

 

কুয়াকাটার বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদে দোকানি মোঃ জহির হোসেন জানালেন, তিনি ফি মাসে ৪০০-৪৫০ টাকার বিল দিতেন। কিন্তু জুন মাসে তার দোকান ও বাসায় দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে শতকরা ৮০ শতাংশ গ্রাহকের অভিযোগ তাঁদের বিদ্যুৎবিল অনুমান নির্ভর করা হয়েছে। বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হয়েছে।  গ্রাহকের কমন অভিযোগ, জুন মাসে লোডশেডিং ছিল। ইউনিট কম ব্যবহার করেছেন। অথচ উল্টো বিলে ইউনিট দেড়-দুই গুন বেশি দেখিয়ে বিল দ্বিগুন করা হয়েছে। গ্রহকরা দাবি করেছেন মিটার না দেখে অন্তত গড়ে প্রত্যেক গ্রাহকের ৩০-১০০ ইউনিট বাড়িয়ে বিল করা হয়েছে। যাতে এখানকার ৯০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ ইউনিটের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হাতিয়ে নেয়ার কাজটি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যা টাকার অংকে অন্তত সাড়ে চার কোটি টাকা। গ্রাহকরা এর থেকে পরিত্রাণ চেয়েছেন।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কলাপাড়া জোনাল অফিসসূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া জোনাল অফিসের অধীন ৬১ হাজার ৭৫১ জন এবং কুয়াকাটা জোনাল অফিসের অধীন ৩২ হাজার ৩১২ জন গ্রাহক রয়েছে। মোট ৯৪ হাজার ৬৩ জন গ্রাহকের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের অভিযোগ তাঁদের জুন মাসে ভৌতিক বিল দেয়া হয়েছে। মে মাসের চেয়ে তারা বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেছেন।

 

লোডশেডিং ছিল অথচ বিলে ইউনিট দেড় থেকে দুইগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্ত করে যার সত্যতা মিলছে তার বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, যে গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।