ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ Time View
২৭

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জাল বসানোর কারণে কাক্সিক্ষত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। উপজেলার ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর একটি বিশাল অংশজুড়ে বসানো হয়েছে এই খুর্চি জাল। অবৈধ এই খুর্চি জালে আটকা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুপোনা এবং জলজপ্রাণী। মাছের অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এই অবৈধ খুর্চি জাল বসানো হয়েছে স্থানীয় কথিত প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।

জানা গেছে, অবৈধ এই খুর্চি জাল বসানোর কারণে অন্য জালে তেমন কোনো মাছ ধরা পড়ছে না। নদীর অধিকাংশ মাছই আটকা পড়ে এই খুর্চি জালে। যার ফলে এই ভরা মৌসুমেও নদীতে মাছের আকাল চলছে। একটি সাধারণ জেলে নৌকা যেখানে দৈনিক আট থেকে দশ হাজার টাকার মাছ পেতো সেখানে এখন এক হাজার টাকার মাছও মিলছে না।

উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা মাছ ঘাটের জেলে ফারুক মাঝি, শফি মাঝি ও রবু মাঝিসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জেলে জানান, মেঘনা নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধ খুর্চি জাল বসানো হলেও তা দেখছে না প্রশাসন। এই জাল বসানোর জন্য নদীর মধ্যে জেগে ওঠা সরকারি বনাঞ্চল থেকে শতশত গাছ কেটে খুঁিট বানানো হয়েছে। এই খুঁটি নদীর মধ্যে পুঁতে জাল বসানোর কারণে মাছের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে এই খুর্চি জালে আটকা পড়ছে সব ধরণের ছোট-বড় মাছ। যার কারণে সাধারণ জেলেরা কাক্সিক্ষত মাছ পাচ্ছেন না। দুই বছর আগে একবার এই অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদ করা হলেও এবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তাই মেঘনা নদীর ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের অর্ন্তগত মেঘনা নদীর দুটি পয়েন্টে বসানো খুর্চি জালগুলো উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নদীর তীরবর্তী কিছু সংখ্যক জেলে বলেন, অবৈধ খুর্চি জালের মাছ এবং মাছ বিক্রির টাকার ভাগ পৌঁছে যায় স্থানীয় কথিত কিছু প্রভাবশালীদের কাছে। যার কারণে এই খুর্চি জালের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস করছেন না অনেকে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনও বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় খুর্চি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তারপরও দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা এই অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

লালমোহনে মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জাল

Update Time : ০১:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
২৭

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জাল বসানোর কারণে কাক্সিক্ষত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। উপজেলার ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর একটি বিশাল অংশজুড়ে বসানো হয়েছে এই খুর্চি জাল। অবৈধ এই খুর্চি জালে আটকা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুপোনা এবং জলজপ্রাণী। মাছের অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এই অবৈধ খুর্চি জাল বসানো হয়েছে স্থানীয় কথিত প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।

জানা গেছে, অবৈধ এই খুর্চি জাল বসানোর কারণে অন্য জালে তেমন কোনো মাছ ধরা পড়ছে না। নদীর অধিকাংশ মাছই আটকা পড়ে এই খুর্চি জালে। যার ফলে এই ভরা মৌসুমেও নদীতে মাছের আকাল চলছে। একটি সাধারণ জেলে নৌকা যেখানে দৈনিক আট থেকে দশ হাজার টাকার মাছ পেতো সেখানে এখন এক হাজার টাকার মাছও মিলছে না।

উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা মাছ ঘাটের জেলে ফারুক মাঝি, শফি মাঝি ও রবু মাঝিসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জেলে জানান, মেঘনা নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধ খুর্চি জাল বসানো হলেও তা দেখছে না প্রশাসন। এই জাল বসানোর জন্য নদীর মধ্যে জেগে ওঠা সরকারি বনাঞ্চল থেকে শতশত গাছ কেটে খুঁিট বানানো হয়েছে। এই খুঁটি নদীর মধ্যে পুঁতে জাল বসানোর কারণে মাছের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে এই খুর্চি জালে আটকা পড়ছে সব ধরণের ছোট-বড় মাছ। যার কারণে সাধারণ জেলেরা কাক্সিক্ষত মাছ পাচ্ছেন না। দুই বছর আগে একবার এই অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদ করা হলেও এবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তাই মেঘনা নদীর ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের অর্ন্তগত মেঘনা নদীর দুটি পয়েন্টে বসানো খুর্চি জালগুলো উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নদীর তীরবর্তী কিছু সংখ্যক জেলে বলেন, অবৈধ খুর্চি জালের মাছ এবং মাছ বিক্রির টাকার ভাগ পৌঁছে যায় স্থানীয় কথিত কিছু প্রভাবশালীদের কাছে। যার কারণে এই খুর্চি জালের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস করছেন না অনেকে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনও বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় খুর্চি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তারপরও দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা এই অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেবো।