ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View
৩০

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার সকালে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী এলাকার শিউলি বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। মাত্র ৩০ মিনিটির আগুনে পুড়ে যায় ওই বাড়ির আব্দুল মুনাফ এবং মৃত আলী হোসেন নামে দুই ভাইয়ের জোড়া বসতঘর।

 

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রচেষ্টায়ও রক্ষা হয়নি বসতঘর দু’টো। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতঘরগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল। পরনের কাপড়-চোপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। এই অগ্নিকা-ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় ভুক্তভোগী ওই দুই ভাইয়ের। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকা-ের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মালিক আব্দুল মুনাফ শিউলি জানান, সকালের দিকে ঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখে আমি ডাকচিৎকারে দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে আগুনের ভয়াবহতার কারণে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমার এবং আমার মৃত ছোট ভাই আলী হোসেনের জোড়া বসতঘর দু’টো পুড়ে যায়। এই অগ্নিকা-ে ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, টেলিভিশন, ফ্রিজ, শোকেস, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে আমাদের অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সর্বনাশা আগুনে বহু বছরের কষ্টার্জিত আমাদের সম্পদ মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার স্ত্রী-সন্তান, আর ভাইয়ের সন্তানরা মিলে অন্যের ঘরে আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। প্রায় তিন বছর আগে ধারদেনা করে এই ঘর দু’টো নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও আমাদের প্রায় ৬ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সেই দেনা শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছি, এখন নতুন করে ঘর তোলার কোনো সাধ্য নেই আমাদের। তাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, অগ্নিকা-ে দুইটি বসতঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

লালমোহনে অগ্নিকাণ্ডে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই

Update Time : ০১:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৩০

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার সকালে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী এলাকার শিউলি বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। মাত্র ৩০ মিনিটির আগুনে পুড়ে যায় ওই বাড়ির আব্দুল মুনাফ এবং মৃত আলী হোসেন নামে দুই ভাইয়ের জোড়া বসতঘর।

 

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রচেষ্টায়ও রক্ষা হয়নি বসতঘর দু’টো। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতঘরগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল। পরনের কাপড়-চোপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। এই অগ্নিকা-ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় ভুক্তভোগী ওই দুই ভাইয়ের। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকা-ের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মালিক আব্দুল মুনাফ শিউলি জানান, সকালের দিকে ঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখে আমি ডাকচিৎকারে দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে আগুনের ভয়াবহতার কারণে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমার এবং আমার মৃত ছোট ভাই আলী হোসেনের জোড়া বসতঘর দু’টো পুড়ে যায়। এই অগ্নিকা-ে ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, টেলিভিশন, ফ্রিজ, শোকেস, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে আমাদের অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সর্বনাশা আগুনে বহু বছরের কষ্টার্জিত আমাদের সম্পদ মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার স্ত্রী-সন্তান, আর ভাইয়ের সন্তানরা মিলে অন্যের ঘরে আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। প্রায় তিন বছর আগে ধারদেনা করে এই ঘর দু’টো নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও আমাদের প্রায় ৬ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সেই দেনা শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছি, এখন নতুন করে ঘর তোলার কোনো সাধ্য নেই আমাদের। তাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, অগ্নিকা-ে দুইটি বসতঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।