ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলের নিয়োগ পরীক্ষায় এমপিপুত্রের ‘অবৈধ’ উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View
২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী (সুপারভাইজার) নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষার হলে সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদারের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি মোবাইল ফোন হাতে প্রায় ৩০ মিনিট পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

একাধিক পরীক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার মোবাইল ফোন হাতে হলরুমে অবস্থান করেন।তাদের অভিযোগ, একজন বহিরাগত হিসেবে তাঁর পরীক্ষার হলে অবস্থান করা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা ফোন বহন করা পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, “পরীক্ষার হলে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের হতবাক করেছে। এর ওপর মোবাইল ফোন হাতে আকাশ তালুকদার পুরো সময় পরীক্ষার হলে ছিলেন, যা পরীক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।”

আরেক পরীক্ষার্থী জাফর ইকবাল বলেন, “পরীক্ষার হলে প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগত কারও মোবাইল ফোন হাতে অবস্থান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পুরো সময় তাঁকে মোবাইল ফোন হাতে দেখেছি।”

পরীক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন বলেন, “সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে আকাশ তালুকদার বলেন, পরীক্ষার সময় আমি হলে উপস্থিত ছিলাম। তবে বেশিক্ষন থাকিনি। অল্প সময় ছিলাম।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে গাঁজাসহ মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বাউফলের নিয়োগ পরীক্ষায় এমপিপুত্রের ‘অবৈধ’ উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

Update Time : ১০:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী (সুপারভাইজার) নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষার হলে সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদারের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি মোবাইল ফোন হাতে প্রায় ৩০ মিনিট পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

একাধিক পরীক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার মোবাইল ফোন হাতে হলরুমে অবস্থান করেন।তাদের অভিযোগ, একজন বহিরাগত হিসেবে তাঁর পরীক্ষার হলে অবস্থান করা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা ফোন বহন করা পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, “পরীক্ষার হলে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের হতবাক করেছে। এর ওপর মোবাইল ফোন হাতে আকাশ তালুকদার পুরো সময় পরীক্ষার হলে ছিলেন, যা পরীক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।”

আরেক পরীক্ষার্থী জাফর ইকবাল বলেন, “পরীক্ষার হলে প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগত কারও মোবাইল ফোন হাতে অবস্থান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পুরো সময় তাঁকে মোবাইল ফোন হাতে দেখেছি।”

পরীক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন বলেন, “সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে আকাশ তালুকদার বলেন, পরীক্ষার সময় আমি হলে উপস্থিত ছিলাম। তবে বেশিক্ষন থাকিনি। অল্প সময় ছিলাম।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।