ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষার শুরুতেই ভাঙন আতঙ্ক : অস্তিত্ব সংকটে বাবুগঞ্জ বাজার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৭ Time View
১২৭
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার।
নদীবেষ্টিত এই উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে নদীভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে ভিটেমাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
বর্তমানে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, বরিশাল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা, বকুলতলা স্টেশন এবং দক্ষিণ ভুতেরদিয়া নতুনচরের একটি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে ছোট মীরগঞ্জ, লোহালিয়া, রাজগুরু গ্রাম এবং কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ হুমকির মুখে। এছাড়া সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
চর সাধুকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও আশপাশের বসতবাড়ি ও স্থাপনাগুলোও বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলে তখনই পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।
বাবুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ভাঙনের কারণে কেদারপুর থেকে এখানে এসে বসতি গড়েছিলাম। এখন আবার সুগন্ধা নদীর ভাঙনে নতুন বসতিও হারানোর শঙ্কায় আছি।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা মজিবুর রহমান বাচ্চু সরদার বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে আগের ভিটেমাটি হারিয়ে এখানে এসেছি। সর্বস্ব দিয়ে ঘর করেছি, এখন সেটিও ঝুঁকিতে। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প প্রয়োজন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বাবুগঞ্জের নদীভাঙন রোধ আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বাবুগঞ্জ বাজার, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমি জোরালোভাবে কাজ করছি।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলা রক্ষার জন্য একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অব্যাহত ভাঙনে বাবুগঞ্জের জনজীবন দিন দিন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বর্ষার শুরুতেই ভাঙন আতঙ্ক : অস্তিত্ব সংকটে বাবুগঞ্জ বাজার

Update Time : ০৭:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১২৭
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার।
নদীবেষ্টিত এই উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে নদীভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে ভিটেমাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
বর্তমানে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, বরিশাল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা, বকুলতলা স্টেশন এবং দক্ষিণ ভুতেরদিয়া নতুনচরের একটি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে ছোট মীরগঞ্জ, লোহালিয়া, রাজগুরু গ্রাম এবং কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ হুমকির মুখে। এছাড়া সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
চর সাধুকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও আশপাশের বসতবাড়ি ও স্থাপনাগুলোও বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলে তখনই পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।
বাবুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ভাঙনের কারণে কেদারপুর থেকে এখানে এসে বসতি গড়েছিলাম। এখন আবার সুগন্ধা নদীর ভাঙনে নতুন বসতিও হারানোর শঙ্কায় আছি।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা মজিবুর রহমান বাচ্চু সরদার বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে আগের ভিটেমাটি হারিয়ে এখানে এসেছি। সর্বস্ব দিয়ে ঘর করেছি, এখন সেটিও ঝুঁকিতে। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প প্রয়োজন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বাবুগঞ্জের নদীভাঙন রোধ আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বাবুগঞ্জ বাজার, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমি জোরালোভাবে কাজ করছি।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলা রক্ষার জন্য একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অব্যাহত ভাঙনে বাবুগঞ্জের জনজীবন দিন দিন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।