ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কক্ষে শিক্ষকদের তালা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৬৩ Time View
১০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক  : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। এমনকি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন বেগবান করছেন।

 

সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস কক্ষে তালা মেরে দেন। এর আগে তাদেরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

 

সকাল থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দফতরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কর্মরতদের তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার হওয়ার আহ্বান করেন। পরে শিক্ষকদের একটি টিম প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তালা মেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

 

কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও তার কোনও সমাধান হয়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সভা করে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।

 

এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।

 

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। সেশনজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পথে এগোবে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের দাবি জানান তারা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কক্ষে শিক্ষকদের তালা

Update Time : ০১:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
১০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক  : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। এমনকি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন বেগবান করছেন।

 

সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস কক্ষে তালা মেরে দেন। এর আগে তাদেরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

 

সকাল থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দফতরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কর্মরতদের তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার হওয়ার আহ্বান করেন। পরে শিক্ষকদের একটি টিম প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তালা মেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

 

কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও তার কোনও সমাধান হয়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সভা করে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।

 

এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।

 

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। সেশনজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পথে এগোবে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের দাবি জানান তারা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।