ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনিক শূন্যতায় স্থবির দুমকি উপজেলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১ Time View
৮৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ইউএনওসহ একাধিক দপ্তর প্রধানের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রতিদিন সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় এক মাস ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও ফরিদা সুলতানা বদলিজনিত কারণে গত ২৬ মার্চ চলে যান। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দুমকি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে তিনি সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন দুমকিতে উপস্থিত থাকায় বাকি সময়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে থাকে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘ এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুন নাহার ইয়াসমিনের বদলির পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বিলম্ব হচ্ছে।

একইভাবে, গত বছরের জুন মাস থেকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ কর্মকর্তা কমল গোপাল দে বিদায়ের পর থেকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

পরিসংখ্যান অফিসে দীর্ঘদিন থেকে কোনো কর্মকর্তা নেই। প্রায় তিনবছর আগে উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারি বিদায় নেন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন মশিউর রহমান।

এছাড়াও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদটি গত বছরের এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিদায়ের পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

উপজেলার নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জরুরি কাগজত্রে স্বাক্ষরের জন্য আমাদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে একদিন আসায় স্বাভাবিকভাবে কাজগুলো বিলম্বিত হচ্ছে।’

মুরাদিয়া ইউনিয়নের সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘ইউএনও না থাকায় জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক জরুরি অফিসিয়াল কাজও সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, ‘একসঙ্গে দুটি উপজেলা সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও চেষ্টা করছি সাধ্যমতো দুমকি উপজেলার সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে।’

জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, ‘দুমকি উপজেলার ইউএনও পদ শূন্য থাকার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে নতুন ইউএনও পদায়ন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অন্য দপ্তরের শূন্য পদগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের জানানো হবে। যাতে তারা বিষয়টি মনিটরিং করেন।’ এসব শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

প্রশাসনিক শূন্যতায় স্থবির দুমকি উপজেলা

Update Time : ০১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৮৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ইউএনওসহ একাধিক দপ্তর প্রধানের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রতিদিন সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় এক মাস ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও ফরিদা সুলতানা বদলিজনিত কারণে গত ২৬ মার্চ চলে যান। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দুমকি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে তিনি সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন দুমকিতে উপস্থিত থাকায় বাকি সময়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে থাকে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘ এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুন নাহার ইয়াসমিনের বদলির পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বিলম্ব হচ্ছে।

একইভাবে, গত বছরের জুন মাস থেকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ কর্মকর্তা কমল গোপাল দে বিদায়ের পর থেকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

পরিসংখ্যান অফিসে দীর্ঘদিন থেকে কোনো কর্মকর্তা নেই। প্রায় তিনবছর আগে উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারি বিদায় নেন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন মশিউর রহমান।

এছাড়াও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদটি গত বছরের এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিদায়ের পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

উপজেলার নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জরুরি কাগজত্রে স্বাক্ষরের জন্য আমাদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে একদিন আসায় স্বাভাবিকভাবে কাজগুলো বিলম্বিত হচ্ছে।’

মুরাদিয়া ইউনিয়নের সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘ইউএনও না থাকায় জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক জরুরি অফিসিয়াল কাজও সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, ‘একসঙ্গে দুটি উপজেলা সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও চেষ্টা করছি সাধ্যমতো দুমকি উপজেলার সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে।’

জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, ‘দুমকি উপজেলার ইউএনও পদ শূন্য থাকার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে নতুন ইউএনও পদায়ন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অন্য দপ্তরের শূন্য পদগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের জানানো হবে। যাতে তারা বিষয়টি মনিটরিং করেন।’ এসব শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।