ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুর শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বুধবার (৬ আগষ্ট) বেলা ১১টায়  তদন্তের সময অভিযোগকারী ও প্রধান শিক্ষকের পক্ষের গ্রুপের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। এছাড়া সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) গঠন এবং নিজস্ব লোকজনের মধ্যে এসএমসি সদস্যপদের ফরম বিতরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অধিকাংশ অভিভাবককে না জানিয়েই গোপনে এসএমসি গঠন করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক খোকন হোসেন, মিন্টু তালুকদার, এমদাদুল হক খানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অন্যত্র বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সমর্থক অভিভাবক ও অভিযোগকারী অভিভাবকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তদন্ত কর্মকর্তা নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুল রহমান বলেন, অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

পিরোজপুর শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ

Update Time : ১১:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বুধবার (৬ আগষ্ট) বেলা ১১টায়  তদন্তের সময অভিযোগকারী ও প্রধান শিক্ষকের পক্ষের গ্রুপের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। এছাড়া সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) গঠন এবং নিজস্ব লোকজনের মধ্যে এসএমসি সদস্যপদের ফরম বিতরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অধিকাংশ অভিভাবককে না জানিয়েই গোপনে এসএমসি গঠন করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক খোকন হোসেন, মিন্টু তালুকদার, এমদাদুল হক খানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অন্যত্র বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সমর্থক অভিভাবক ও অভিযোগকারী অভিভাবকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তদন্ত কর্মকর্তা নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সজল কান্তি সিকদার জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুল রহমান বলেন, অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।