ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১১ Time View
১৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবককে কুপিয়ে শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে মো. আবুল বাসার সুজন (৩৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের মধ্য লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা সুজনের চোখ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি তার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে। নিহত সুজন ওই এলাকার মৃত বজলু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী তিনি এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে কালু মিয়াকে (২০) মারধর করেন সুজন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ (২৮) প্রতিবাদ করতে গেলে সুজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গুরুতর আহত রিয়াজকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রিয়াজের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকশ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সুজনের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে গণপিটুনি দেয় এবং একপর্যায়ে তার চোখ উপড়ে ফেলে। এ সময় তার বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং সুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

পাথরঘাটায় যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

Update Time : ০২:২১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবককে কুপিয়ে শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে মো. আবুল বাসার সুজন (৩৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের মধ্য লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা সুজনের চোখ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি তার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে। নিহত সুজন ওই এলাকার মৃত বজলু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী তিনি এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে কালু মিয়াকে (২০) মারধর করেন সুজন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ (২৮) প্রতিবাদ করতে গেলে সুজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গুরুতর আহত রিয়াজকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রিয়াজের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকশ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সুজনের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে গণপিটুনি দেয় এবং একপর্যায়ে তার চোখ উপড়ে ফেলে। এ সময় তার বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং সুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।