ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় নদীভাঙন ও দুর্যোগ : টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ Time View
৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে স্থায়ী সুরক্ষার দাবিতে টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচচুঙ্গা এলাকায় ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, জিনতলা থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পদ্মা ভাঙ্গন এলাকা ও রুহিতা গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলেন, ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডারের পর ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধগুলো এখনো স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়নি, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে বেরিবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনতে পারেনি। বরং এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সামান্য জোয়ার কিংবা দুর্যোগ এলেই বেরিবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে ফসলের মাঠে, তলিয়ে যায় বসতভিটা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি ও জনজীবন।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সিডারের পর থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিরাপদ আশ্রয় ও জীবিকার অভাবে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তায় ভরা।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে। দেশের সর্ব দক্ষিণাঞ্চলের এই ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সগির আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান সাহেদ, পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম ফারুক, ওই এলাকার কয়েকজন ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এসময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছবির আলম বলেন, আমরা যে বেরিবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচটি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা বলেন, আমরা টেকসই বেরিবাঁধ চাই। শুধুমাত্র মাটি বা বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িক সমাধান নয়, এখানে ব্লক বসিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা তিন কিলোমিটার এই বেরিবাঁধ হয়তো আর ১৫ দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাবে।

বক্তব্যে বদিউজ্জামান সাহেদ বলেন, আমরা যে স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, এটি বিষখালী, বলেশ্বর ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার মানুষ যুগের পর যুগ আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। জোয়ারের ঢেউ কখন বেরিবাঁধ ভেঙে বসতভিটা ডুবিয়ে দেবে, সেই শঙ্কায় দিন-রাত কাটে তাদের।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষ প্রায় আশা হারিয়ে ফেলেছিল। তবে এখন নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি, যিনি পাথরঘাটার কৃতী সন্তান তার আন্তরিক উদ্যোগে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের একটাই দাবি প্রতিবার দুর্যোগের পর সাময়িক ত্রাণ নয়, নিরাপদ ও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

পাথরঘাটায় নদীভাঙন ও দুর্যোগ : টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে স্থায়ী সুরক্ষার দাবিতে টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচচুঙ্গা এলাকায় ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, জিনতলা থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পদ্মা ভাঙ্গন এলাকা ও রুহিতা গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলেন, ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডারের পর ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধগুলো এখনো স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়নি, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে বেরিবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনতে পারেনি। বরং এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সামান্য জোয়ার কিংবা দুর্যোগ এলেই বেরিবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে ফসলের মাঠে, তলিয়ে যায় বসতভিটা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি ও জনজীবন।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সিডারের পর থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিরাপদ আশ্রয় ও জীবিকার অভাবে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তায় ভরা।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে। দেশের সর্ব দক্ষিণাঞ্চলের এই ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সগির আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান সাহেদ, পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম ফারুক, ওই এলাকার কয়েকজন ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এসময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছবির আলম বলেন, আমরা যে বেরিবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এই ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচটি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা বলেন, আমরা টেকসই বেরিবাঁধ চাই। শুধুমাত্র মাটি বা বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িক সমাধান নয়, এখানে ব্লক বসিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা তিন কিলোমিটার এই বেরিবাঁধ হয়তো আর ১৫ দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাবে।

বক্তব্যে বদিউজ্জামান সাহেদ বলেন, আমরা যে স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, এটি বিষখালী, বলেশ্বর ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার মানুষ যুগের পর যুগ আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। জোয়ারের ঢেউ কখন বেরিবাঁধ ভেঙে বসতভিটা ডুবিয়ে দেবে, সেই শঙ্কায় দিন-রাত কাটে তাদের।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষ প্রায় আশা হারিয়ে ফেলেছিল। তবে এখন নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি, যিনি পাথরঘাটার কৃতী সন্তান তার আন্তরিক উদ্যোগে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের একটাই দাবি প্রতিবার দুর্যোগের পর সাময়িক ত্রাণ নয়, নিরাপদ ও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা।