ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৪ Time View
২০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুরের নগরকান্দায় এগারো দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী এজেন্ট মাওলানা আমীর হোসেনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার জয়বাংলা মোড় থেকে লেগুনাযোগে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আমীর হোসেন। পথিমধ্যে ঝাটুরদিয়া এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়ি থামিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে হাতুড়ি, ইট-পাথর ও রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সিটিস্ক্যান রিপোর্টে ব্রেইনে রক্তক্ষরণের চিহ্ন থাকায় শনিবার বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল এলাকায় ‘রিকশা’ প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি চক্র বিএনপির পক্ষে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে আমীর হোসেন বাধা দেন। এর জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে মধ্য কাইচাইল এলাকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—এখলাস মাতুব্বর (৩২), শাহরিয়ার মাতুব্বর (৩৫), কাওসার মাতুব্বর (৩৩), বাবু মাতুব্বর (৩৪), আবু তাহের (৩৬) ও খালিদ মাতুব্বর (৩১) প্রমুখ।

এ বিষয়ে আল্লামা আকরাম আলীর মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “কাইচাইল ইউনিয়নে রিকশা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার ‘অপরাধে’ মাওলানা আমীর হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।”

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “দলীয় নির্দেশনা হচ্ছে—কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। কে কাকে ভোট দিয়েছে, সেটি মুখ্য নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।”

এদিকে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

নির্বাচনী এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত

Update Time : ১০:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুরের নগরকান্দায় এগারো দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী এজেন্ট মাওলানা আমীর হোসেনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার জয়বাংলা মোড় থেকে লেগুনাযোগে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আমীর হোসেন। পথিমধ্যে ঝাটুরদিয়া এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়ি থামিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে হাতুড়ি, ইট-পাথর ও রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সিটিস্ক্যান রিপোর্টে ব্রেইনে রক্তক্ষরণের চিহ্ন থাকায় শনিবার বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল এলাকায় ‘রিকশা’ প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি চক্র বিএনপির পক্ষে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে আমীর হোসেন বাধা দেন। এর জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে মধ্য কাইচাইল এলাকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—এখলাস মাতুব্বর (৩২), শাহরিয়ার মাতুব্বর (৩৫), কাওসার মাতুব্বর (৩৩), বাবু মাতুব্বর (৩৪), আবু তাহের (৩৬) ও খালিদ মাতুব্বর (৩১) প্রমুখ।

এ বিষয়ে আল্লামা আকরাম আলীর মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “কাইচাইল ইউনিয়নে রিকশা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার ‘অপরাধে’ মাওলানা আমীর হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।”

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “দলীয় নির্দেশনা হচ্ছে—কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে জড়ালে তার দায় দল নেবে না। কে কাকে ভোট দিয়েছে, সেটি মুখ্য নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।”

এদিকে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।