ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোরণ-ব্যানার ছাড়াই বরিশালে জামায়াতের বিভাগীয় সম্মেলন, রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৪২ Time View
৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময় বরিশালে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের সফর মানেই ছিল শহরজুড়ে শত শত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও দৃষ্টিনন্দন তোরণের ছড়াছড়ি। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এ যেন অলিখিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বরিশাল সফরের আগে তার ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, পোস্টার ও তোরণ নির্মাণ না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার প্রতিফলন দেখা যায় পুরো বরিশালজুড়ে। তার সফর উপলক্ষে অতীতের মতো কোথাও ব্যানার, পোস্টার কিংবা তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে গুরুত্ব পেয়েছে সংযম, শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততা।

একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। আগামীকাল শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় বরিশালের কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য দলটির বিভাগীয় সম্মেলন উপলক্ষে কোনো ব্যানার, পোস্টার কিংবা তোরণ নির্মাণ করা হয়নি।

দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সেজন্য গত প্রায় একমাস ধরে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তারপরও নগরীর কোথাও ব্যানার, ফেস্টুন বা পোস্টারিং চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ময়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত সততা, শৃঙ্খলা ও দেশের স্বার্থে ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি, সেসব বিষয়ে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঐকমত্যে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’ ব্যক্তির প্রচারের চেয়ে জনগণের কল্যাণ ও রাজনৈতিক শালীনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যানার-পোস্টার ও তোরণনির্ভর রাজনৈতিক প্রদর্শন থেকে সরে আসার এ প্রবণতা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে, তেমনি নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অথচ খুব বেশি দিন আগের নয়, যখন এ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বা মন্ত্রীদের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে কেবল তোরণ নির্মাণেই প্রতিবার খরচ হতো প্রায় ৫০ লাখ টাকা। একই প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান- অপসোনিন, এংকর সিমেন্ট ও খান ব্রাদার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোরও নিজস্ব অবস্থান ছিল।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, ব্যয়বহুল সাজসজ্জার প্রতিযোগিতা নয়। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যানার-পোস্টার ও তোরণ পরিহারের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় সম্মেলনেও একই নীতি অনুসরণ বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

তোরণ-ব্যানার ছাড়াই বরিশালে জামায়াতের বিভাগীয় সম্মেলন, রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস

Update Time : ১১:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময় বরিশালে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের সফর মানেই ছিল শহরজুড়ে শত শত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও দৃষ্টিনন্দন তোরণের ছড়াছড়ি। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এ যেন অলিখিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বরিশাল সফরের আগে তার ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, পোস্টার ও তোরণ নির্মাণ না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার প্রতিফলন দেখা যায় পুরো বরিশালজুড়ে। তার সফর উপলক্ষে অতীতের মতো কোথাও ব্যানার, পোস্টার কিংবা তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে গুরুত্ব পেয়েছে সংযম, শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততা।

একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। আগামীকাল শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় বরিশালের কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য দলটির বিভাগীয় সম্মেলন উপলক্ষে কোনো ব্যানার, পোস্টার কিংবা তোরণ নির্মাণ করা হয়নি।

দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সেজন্য গত প্রায় একমাস ধরে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তারপরও নগরীর কোথাও ব্যানার, ফেস্টুন বা পোস্টারিং চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ময়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা সরকারের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত সততা, শৃঙ্খলা ও দেশের স্বার্থে ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি, সেসব বিষয়ে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঐকমত্যে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’ ব্যক্তির প্রচারের চেয়ে জনগণের কল্যাণ ও রাজনৈতিক শালীনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যানার-পোস্টার ও তোরণনির্ভর রাজনৈতিক প্রদর্শন থেকে সরে আসার এ প্রবণতা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে, তেমনি নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অথচ খুব বেশি দিন আগের নয়, যখন এ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বা মন্ত্রীদের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে কেবল তোরণ নির্মাণেই প্রতিবার খরচ হতো প্রায় ৫০ লাখ টাকা। একই প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান- অপসোনিন, এংকর সিমেন্ট ও খান ব্রাদার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোরও নিজস্ব অবস্থান ছিল।

সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, ব্যয়বহুল সাজসজ্জার প্রতিযোগিতা নয়। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যানার-পোস্টার ও তোরণ পরিহারের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় সম্মেলনেও একই নীতি অনুসরণ বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।