ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলীতে শ্রমিকদল সভাপতি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৪ Time View
৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজী হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের ফাঁসাতে আসামিপক্ষ বাড়ী ভাংচুর ও গরু লুটের  মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদীর অভিযোগ হত্যা মামলাকে ধামা চাপা দিতে এবং মামলার মোটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামী পক্ষের লোকজন উঠেপরে লেগেছে। এঘটনায় তারা প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালী বাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান ভূট্টা কাজীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামে ঘুরতে গিয়ে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) খুন হন। এঘটনায় তার মা আমেনা বেগম ২ জুলাই বৃহস্পতিবার ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পটুয়াখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত এবং বাদী ও স্বাক্ষীদের হয়রানি করতে  এক নম্বর আসামী রিফাত কাজীর মা ফেরদৌসি বেগম বাদী হয়ে ২১ জুলাই বুধবার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি গরু হাঁস মুরগী ও ঘরে ঢ়ুকে ৩লক্ষ ৯২ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।  এ  লুট মামলায় আসামী করা হয়েছে রিপন কাজী হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ৪ নম্বর স্বাক্ষী বাদীর ভাসুরের ছেলে রাজীব কাজী, ২ নাম্বর সাক্ষী বাদীর পুত্র মো. ছাব্বির কাজী, ১ নাম্বার সাক্ষী বাদীর দেবর মো. মাহবুব কাজী, বাদীর জামাই পান্নু ভূঁইয়া, ছোট ছেরের শশুর হেলাল তালুকদার,  বড় ভাই মো. কবির মল্লিক, ভাতিজা মো. ইমরান মল্লিক ও জ্যা নাজমা বেগমসহ ৯জনকে।

নিহত রিপন কাজীর পরিবারের অভিযোগ তার বাবা মো. মিজানুর রহমান কাজী একজন বিয়ে পাগল লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একাধিক বিয়ের কারনে তিনি জমি জমা বিক্রি করে প্রথম স্ত্রী এবং তার ছেলে ও মেয়েদের বঞ্চিত করে আসছেন। এ নিয়ে রিপন কাজী প্রতিবাদ করায় তার বাবা ভাতিজাদের নিয়ে ছেলে রিপনকে পরিকল্পনা করে খুন করেন। এ কারণে খুনের মামলায় তার পিতা মিজানুর রহমান ৬ নাম্বর আসামী।

নিহত রিপনের ছোট ভাই ছাব্বির কাজী অভিযোগ করে বলেন, হত্যা মামলার আসামীরা এখনো সবাই গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ মামলায় কিছু হবে না বলে গোপনে বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিরা প্রচার চালাচ্ছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।

মামলার বাদী নিহত রিপনের মা আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছে। একাধিক বিয়ের কারনে সকল জমি জমা বিক্রি করে সে আমাদের বঞ্চিত করছে। আমার ছেলে রিপন এর প্রতিবাদ করায় তার বাবা মিজানুর রহমান কাজী তার বড় ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজীর সাথে পরিকল্পনা করে রিপনকে খুন করেছে। খুনের পর এখন মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা নতুন করে পরিকল্পনা করে মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢ়ুকে মালামাল স্বর্ন ও গরু লুটের অভিযোগ এনে উপজেলা  ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমি এই মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহরসহ রিপন হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, নিহত রিপন কাজীর পরিবারবর্গকে আসামী পক্ষ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এটা অত্যান্ত নিন্দনীয়। আমি এই হত্যাকেন্ডর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামন বলেন, রিপন হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোহাগ কাজী ও রাসেল কাজী নামে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আদালত থেকে মামলার নথি এখন থানায় আসেনি। নথি পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

তালতলীতে শ্রমিকদল সভাপতি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : ১২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজী হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের ফাঁসাতে আসামিপক্ষ বাড়ী ভাংচুর ও গরু লুটের  মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদীর অভিযোগ হত্যা মামলাকে ধামা চাপা দিতে এবং মামলার মোটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামী পক্ষের লোকজন উঠেপরে লেগেছে। এঘটনায় তারা প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালী বাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান ভূট্টা কাজীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামে ঘুরতে গিয়ে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) খুন হন। এঘটনায় তার মা আমেনা বেগম ২ জুলাই বৃহস্পতিবার ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পটুয়াখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত এবং বাদী ও স্বাক্ষীদের হয়রানি করতে  এক নম্বর আসামী রিফাত কাজীর মা ফেরদৌসি বেগম বাদী হয়ে ২১ জুলাই বুধবার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি গরু হাঁস মুরগী ও ঘরে ঢ়ুকে ৩লক্ষ ৯২ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।  এ  লুট মামলায় আসামী করা হয়েছে রিপন কাজী হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ৪ নম্বর স্বাক্ষী বাদীর ভাসুরের ছেলে রাজীব কাজী, ২ নাম্বর সাক্ষী বাদীর পুত্র মো. ছাব্বির কাজী, ১ নাম্বার সাক্ষী বাদীর দেবর মো. মাহবুব কাজী, বাদীর জামাই পান্নু ভূঁইয়া, ছোট ছেরের শশুর হেলাল তালুকদার,  বড় ভাই মো. কবির মল্লিক, ভাতিজা মো. ইমরান মল্লিক ও জ্যা নাজমা বেগমসহ ৯জনকে।

নিহত রিপন কাজীর পরিবারের অভিযোগ তার বাবা মো. মিজানুর রহমান কাজী একজন বিয়ে পাগল লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একাধিক বিয়ের কারনে তিনি জমি জমা বিক্রি করে প্রথম স্ত্রী এবং তার ছেলে ও মেয়েদের বঞ্চিত করে আসছেন। এ নিয়ে রিপন কাজী প্রতিবাদ করায় তার বাবা ভাতিজাদের নিয়ে ছেলে রিপনকে পরিকল্পনা করে খুন করেন। এ কারণে খুনের মামলায় তার পিতা মিজানুর রহমান ৬ নাম্বর আসামী।

নিহত রিপনের ছোট ভাই ছাব্বির কাজী অভিযোগ করে বলেন, হত্যা মামলার আসামীরা এখনো সবাই গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ মামলায় কিছু হবে না বলে গোপনে বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিরা প্রচার চালাচ্ছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।

মামলার বাদী নিহত রিপনের মা আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছে। একাধিক বিয়ের কারনে সকল জমি জমা বিক্রি করে সে আমাদের বঞ্চিত করছে। আমার ছেলে রিপন এর প্রতিবাদ করায় তার বাবা মিজানুর রহমান কাজী তার বড় ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজীর সাথে পরিকল্পনা করে রিপনকে খুন করেছে। খুনের পর এখন মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা নতুন করে পরিকল্পনা করে মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢ়ুকে মালামাল স্বর্ন ও গরু লুটের অভিযোগ এনে উপজেলা  ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমি এই মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহরসহ রিপন হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, নিহত রিপন কাজীর পরিবারবর্গকে আসামী পক্ষ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এটা অত্যান্ত নিন্দনীয়। আমি এই হত্যাকেন্ডর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামন বলেন, রিপন হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোহাগ কাজী ও রাসেল কাজী নামে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আদালত থেকে মামলার নথি এখন থানায় আসেনি। নথি পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।