ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানিদের যে অভ্যাসগুলো আপনাকেও রাখবে সুস্থ ও কর্মচঞ্চল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯ Time View
৮৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুস্থ, কর্মচঞ্চল আর রোগমুক্ত জীবন সবারই কাম্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে অনেক মানুষই চল্লিশ পেরোনোর পর থেকেই ক্লান্তি, নানা শারীরিক সমস্যা আর রোগে ভুগতে শুরু করেন। অথচ আবার এমন মানুষও আছেন, যারা পঞ্চাশ বা তারও বেশি বয়সে পৌঁছেও বেশ ফিট, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত জীবন কাটান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশভেদে মানুষের গড় আয়ুতে বড় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গড় আয়ু ৪৬ থেকে ৫৫ বছর, আবার উন্নত কিছু দেশে তা ৮২ থেকে ৮৫ বছর পর্যন্ত। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপান।

জাপানিদের গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর, তাও তুলনামূলকভাবে কম রোগব্যাধি নিয়ে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এর পেছনে কোনো অলৌকিক রহস্য নেই। রয়েছে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, পরিমিত খাবার আর কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস।

স্বাস্থ্যকর খাবারেই জোর

জাপানিদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে মাছ, সামুদ্রিক খাবার, সয়াবিন, ফার্মেন্টেড খাবার ও চা। তারা লাল মাংস, চিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খুব কম খান। ফলও খান সীমিত পরিমাণে। এজন্যই তাদের খাবারকে বিশ্বের অন্যতম সুষম খাদ্যতালিকা বলা হয়। শর্করার জন্য তারা বেশি ভরসা করেন মিষ্টি আলুর ওপর। এতে থাকা জটিল শর্করা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বাড়ায় না।

সকালের খাবার কখনো বাদ নয়

জাপানিরা সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। ফাস্টফুড বা পাউরুটির বদলে তারা খান ভাত, জাউভাত, সেদ্ধ বা ভাজা মাছ। রিফাইনড আটা বা ময়দা এড়িয়ে চলাই তাদের নিয়ম।

ধীরে, মন দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস

খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া নয়। জাপানিরা ধীরে ধীরে, ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খান। অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে খাবেন। এতে হজম ভালো হয়, মনও থাকে শান্ত। দ্রুত খাওয়ার ক্ষতিকর দিক তারা জীবনযাপনের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন।

সহজ ও হালকা রান্না

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া তাদের খাবারে খুব একটা নেই। স্টিমড, সেদ্ধ বা ফার্মেন্টেড খাবারই বেশি পছন্দ। অল্প তেলে, কম সময়ে রান্না করা খাবার তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।

কম খাওয়া, কিন্তু প্রয়োজনমতো

জাপানিরা কখনোই অতিরিক্ত খান না। শরীরের যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই খান। এতে বাড়তি ক্যালরি জমে না, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর থাকে সুস্থ।

সয়ার গুরুত্ব

সয়া জাপানিদের খাদ্যতালিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টফু, মিসো, ন্যাটো বা সয়া দুধ- সবখানেই সয়া রয়েছে। সয়াতে থাকা ভালো মানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তি বাড়ায়, পেশি ভালো রাখে এবং বয়সের প্রভাব ধীরে আসে।

বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু বয়সের সঙ্গে অসুস্থতা আসবেই; এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন জাপানিরা। একটু সচেতন জীবনযাপন, পরিমিত খাবার আর কিছু ভালো অভ্যাসই পারে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় থাকার পথ দেখাতে। আজ থেকেই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই বদল আসতে পারে জীবনেও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

জাপানিদের যে অভ্যাসগুলো আপনাকেও রাখবে সুস্থ ও কর্মচঞ্চল

Update Time : ১১:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
৮৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুস্থ, কর্মচঞ্চল আর রোগমুক্ত জীবন সবারই কাম্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে অনেক মানুষই চল্লিশ পেরোনোর পর থেকেই ক্লান্তি, নানা শারীরিক সমস্যা আর রোগে ভুগতে শুরু করেন। অথচ আবার এমন মানুষও আছেন, যারা পঞ্চাশ বা তারও বেশি বয়সে পৌঁছেও বেশ ফিট, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত জীবন কাটান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশভেদে মানুষের গড় আয়ুতে বড় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গড় আয়ু ৪৬ থেকে ৫৫ বছর, আবার উন্নত কিছু দেশে তা ৮২ থেকে ৮৫ বছর পর্যন্ত। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপান।

জাপানিদের গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর, তাও তুলনামূলকভাবে কম রোগব্যাধি নিয়ে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এর পেছনে কোনো অলৌকিক রহস্য নেই। রয়েছে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, পরিমিত খাবার আর কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস।

স্বাস্থ্যকর খাবারেই জোর

জাপানিদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে মাছ, সামুদ্রিক খাবার, সয়াবিন, ফার্মেন্টেড খাবার ও চা। তারা লাল মাংস, চিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খুব কম খান। ফলও খান সীমিত পরিমাণে। এজন্যই তাদের খাবারকে বিশ্বের অন্যতম সুষম খাদ্যতালিকা বলা হয়। শর্করার জন্য তারা বেশি ভরসা করেন মিষ্টি আলুর ওপর। এতে থাকা জটিল শর্করা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বাড়ায় না।

সকালের খাবার কখনো বাদ নয়

জাপানিরা সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। ফাস্টফুড বা পাউরুটির বদলে তারা খান ভাত, জাউভাত, সেদ্ধ বা ভাজা মাছ। রিফাইনড আটা বা ময়দা এড়িয়ে চলাই তাদের নিয়ম।

ধীরে, মন দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস

খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া নয়। জাপানিরা ধীরে ধীরে, ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খান। অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে খাবেন। এতে হজম ভালো হয়, মনও থাকে শান্ত। দ্রুত খাওয়ার ক্ষতিকর দিক তারা জীবনযাপনের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন।

সহজ ও হালকা রান্না

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া তাদের খাবারে খুব একটা নেই। স্টিমড, সেদ্ধ বা ফার্মেন্টেড খাবারই বেশি পছন্দ। অল্প তেলে, কম সময়ে রান্না করা খাবার তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।

কম খাওয়া, কিন্তু প্রয়োজনমতো

জাপানিরা কখনোই অতিরিক্ত খান না। শরীরের যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই খান। এতে বাড়তি ক্যালরি জমে না, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর থাকে সুস্থ।

সয়ার গুরুত্ব

সয়া জাপানিদের খাদ্যতালিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টফু, মিসো, ন্যাটো বা সয়া দুধ- সবখানেই সয়া রয়েছে। সয়াতে থাকা ভালো মানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তি বাড়ায়, পেশি ভালো রাখে এবং বয়সের প্রভাব ধীরে আসে।

বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু বয়সের সঙ্গে অসুস্থতা আসবেই; এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন জাপানিরা। একটু সচেতন জীবনযাপন, পরিমিত খাবার আর কিছু ভালো অভ্যাসই পারে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় থাকার পথ দেখাতে। আজ থেকেই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই বদল আসতে পারে জীবনেও।