ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মোবাইল কেনার বায়না ধরায় ছোট ভাইকে হত্যার পর মাটিচাপা, বড় ভাই গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৬৭ Time View
১২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরে আপন ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় বড়ভাই ও তার এক সহযোগীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবার কাছে মোবাইল চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে ও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে ভাষ্য পুলিশের।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।

গ্রেপ্তাররা হলো- নিহতের বড় ভাই আল আমিন (২৩) ও তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)।

গ্রেপ্তার দুজনের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ সুপার জানান, বাবার কাছে মোবাইল কেনার বায়না ধরে মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া আব্দুর রাহিম (১৩)। বিষয়টি তার বড় ভাই আলামিন হোসেন দেখে তার ছোট ভাইকে ভয় দেখানোর জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে নিয়ে যায়। সেখানে রাহিমকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ দিয়ে চড়-থাপ্পড় মের ভয়ভীতি দেখায় আলামিন। মুখ থেকে স্ক্রচটেপ খোলা হলে রাহিম পুরো ঘটনা তার বাবার কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয় আলামিন এবং রাহিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে আল আমিন তার বন্ধু আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার বাঁশরী রিসোর্ট সংলগ্ন শালবনের ভেতরে নিয়ে রাহিমকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে আলামিন তার অন্য সহযোগী আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে তার মরদেহ মাটি চাপা দেয়। রাহিমের গায়ের জ্যাকেটটি বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এদিকে রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পিতা নুরুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুলিশ শালবনের ভেতর থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখে তার ছেলে রহিমকে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম।

সর্বশেষ পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্র ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নিহতের বড়ভাই মো. আলামিন হোসেন ও তার বন্ধু আশিক আহমেদকে মঙ্গলবার ভোরে জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

গাজীপুরে মোবাইল কেনার বায়না ধরায় ছোট ভাইকে হত্যার পর মাটিচাপা, বড় ভাই গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
১২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরে আপন ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় বড়ভাই ও তার এক সহযোগীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবার কাছে মোবাইল চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে ও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে ভাষ্য পুলিশের।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।

গ্রেপ্তাররা হলো- নিহতের বড় ভাই আল আমিন (২৩) ও তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)।

গ্রেপ্তার দুজনের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ সুপার জানান, বাবার কাছে মোবাইল কেনার বায়না ধরে মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া আব্দুর রাহিম (১৩)। বিষয়টি তার বড় ভাই আলামিন হোসেন দেখে তার ছোট ভাইকে ভয় দেখানোর জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে নিয়ে যায়। সেখানে রাহিমকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ দিয়ে চড়-থাপ্পড় মের ভয়ভীতি দেখায় আলামিন। মুখ থেকে স্ক্রচটেপ খোলা হলে রাহিম পুরো ঘটনা তার বাবার কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয় আলামিন এবং রাহিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে আল আমিন তার বন্ধু আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার বাঁশরী রিসোর্ট সংলগ্ন শালবনের ভেতরে নিয়ে রাহিমকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে আলামিন তার অন্য সহযোগী আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে তার মরদেহ মাটি চাপা দেয়। রাহিমের গায়ের জ্যাকেটটি বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এদিকে রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পিতা নুরুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুলিশ শালবনের ভেতর থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখে তার ছেলে রহিমকে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম।

সর্বশেষ পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্র ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নিহতের বড়ভাই মো. আলামিন হোসেন ও তার বন্ধু আশিক আহমেদকে মঙ্গলবার ভোরে জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।