ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাবেক বিতর্কিত ট্রাষ্টি নাজিমউদ্দীনের মুখোশ ফাঁস! (পর্ব-১)

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৫১ Time View
১৮৯

দৈনিক জনতার কণ্ঠ ।। অনুসন্ধান ডেস্ক | সাভার ও ঢাকা।। ​গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার গড়া স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি এখন এক লুটেরার কবলে পড়ার নতুন চক্রান্তের শিকার। অভিযোগের আঙুল প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ট্রাস্টি ডা. নাজিমউদ্দীন আহমেদের দিকে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ছায়া হয়ে থাকলেও ডা. জাফরুল্লাহর মৃত্যুর পর তার নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে আসে।

 

গত ২৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিতাড়িত হওয়ার পর এখন তিনি আওয়ামী পন্থী মিডিয়া সিন্ডিকেট ব্যবহার করে আবারও প্রতিষ্ঠান দখলের মরিয়া চেষ্টায় মেতেছেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা না দিয়ে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া।


​অনুসন্ধানে ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ডা. নাজিমউদ্দীন নিজের বাড়ি তৈরির অজুহাতে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ডা. জাফরুল্লাহর সরলতার সুযোগ নিয়ে নেওয়া এই বিশাল অংকের টাকা তিনি আর ফেরত দেননি। তার এই ‘আমানত খেয়ানত’ নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ নিজেও শেষ সময়ে ঘনিষ্ঠদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

 

​গাছ থেকে গরু—বাদ যায়নি কিছুই, ​নাজিমউদ্দীনের দখলদারিত্বের সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিণত হয়েছিল ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির আখড়ায়।

কোনো প্রকার টেন্ডার বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি কেন্দ্রের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।

খামারের গরু ও কৃষি পণ্য লুণ্ঠনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরেছেন তিনি।

নাজিমউদ্দীনের দখলের আমলের এই বিশাল লুটপাটের কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত অডিট কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়নি।


​নাজিমউদ্দীনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো তার ‘টর্চার সেল’ পরিচালনা সাব-সেন্টারগুলো দখলে রাখতে তিনি নিজস্ব ‘ছাত্রলীগ ও আওয়ামী ক্যাডার’ বাহিনী ব্যবহার করতেন। এমনকি একজন প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ডা. নাজিমউদ্দীনের উদ্দেশ্য ছিল কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে বর্তমান বৈধ ট্রাস্টি ও সিনিয়র পরিচালকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা।


​গত ২৪ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর, ডা. নাজিমউদ্দীন এখন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মতো সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ‘বৈধ ট্রাস্টি’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ এই মিডিয়াগুলো তার অর্থ আত্মসাৎ, হাসপাতালের মতো জায়গায় তার পালিত সন্ত্রাসীদের মাদকসেবন এবং স্টাফদের ওপর হামলার মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি চেপে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই একতরফা সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

​গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডা. নাজিমউদ্দীনের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তারা বলেন, নাজিমউদ্দীন একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সন্ত্রাসী কায়দায় লুটপাট চালিয়ে ডা. জাফরুল্লাহর ত্যাগের এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে তার এই কালিমালিপ্ত ইতিহাস মোছা যাবে না। বৈধ ট্রাস্টিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লুণ্ঠনকারীর কোনো জায়গা এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আর হবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাধারণ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন, ডা. নাজিমউদ্দীনের আত্মসাৎ করা প্রায় ১০ কোটি টাকা অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে এবং অপহরণ ও লুণ্ঠনের অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। লুণ্ঠনকারীদের হাতে গণস্বাস্থ্য আর কখনো জিম্মি হতে দেওয়া হবে না—এই শপথে বলীয়ান এখন সাভারের সাধারণ মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাবেক বিতর্কিত ট্রাষ্টি নাজিমউদ্দীনের মুখোশ ফাঁস! (পর্ব-১)

Update Time : ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৮৯

দৈনিক জনতার কণ্ঠ ।। অনুসন্ধান ডেস্ক | সাভার ও ঢাকা।। ​গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার গড়া স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি এখন এক লুটেরার কবলে পড়ার নতুন চক্রান্তের শিকার। অভিযোগের আঙুল প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ট্রাস্টি ডা. নাজিমউদ্দীন আহমেদের দিকে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ছায়া হয়ে থাকলেও ডা. জাফরুল্লাহর মৃত্যুর পর তার নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে আসে।

 

গত ২৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিতাড়িত হওয়ার পর এখন তিনি আওয়ামী পন্থী মিডিয়া সিন্ডিকেট ব্যবহার করে আবারও প্রতিষ্ঠান দখলের মরিয়া চেষ্টায় মেতেছেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা না দিয়ে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া।


​অনুসন্ধানে ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ডা. নাজিমউদ্দীন নিজের বাড়ি তৈরির অজুহাতে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ডা. জাফরুল্লাহর সরলতার সুযোগ নিয়ে নেওয়া এই বিশাল অংকের টাকা তিনি আর ফেরত দেননি। তার এই ‘আমানত খেয়ানত’ নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ নিজেও শেষ সময়ে ঘনিষ্ঠদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

 

​গাছ থেকে গরু—বাদ যায়নি কিছুই, ​নাজিমউদ্দীনের দখলদারিত্বের সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিণত হয়েছিল ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির আখড়ায়।

কোনো প্রকার টেন্ডার বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি কেন্দ্রের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।

খামারের গরু ও কৃষি পণ্য লুণ্ঠনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরেছেন তিনি।

নাজিমউদ্দীনের দখলের আমলের এই বিশাল লুটপাটের কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত অডিট কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়নি।


​নাজিমউদ্দীনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো তার ‘টর্চার সেল’ পরিচালনা সাব-সেন্টারগুলো দখলে রাখতে তিনি নিজস্ব ‘ছাত্রলীগ ও আওয়ামী ক্যাডার’ বাহিনী ব্যবহার করতেন। এমনকি একজন প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ডা. নাজিমউদ্দীনের উদ্দেশ্য ছিল কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে বর্তমান বৈধ ট্রাস্টি ও সিনিয়র পরিচালকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা।


​গত ২৪ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর, ডা. নাজিমউদ্দীন এখন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মতো সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ‘বৈধ ট্রাস্টি’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ এই মিডিয়াগুলো তার অর্থ আত্মসাৎ, হাসপাতালের মতো জায়গায় তার পালিত সন্ত্রাসীদের মাদকসেবন এবং স্টাফদের ওপর হামলার মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি চেপে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই একতরফা সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

​গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডা. নাজিমউদ্দীনের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তারা বলেন, নাজিমউদ্দীন একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সন্ত্রাসী কায়দায় লুটপাট চালিয়ে ডা. জাফরুল্লাহর ত্যাগের এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে তার এই কালিমালিপ্ত ইতিহাস মোছা যাবে না। বৈধ ট্রাস্টিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লুণ্ঠনকারীর কোনো জায়গা এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আর হবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাধারণ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন, ডা. নাজিমউদ্দীনের আত্মসাৎ করা প্রায় ১০ কোটি টাকা অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে এবং অপহরণ ও লুণ্ঠনের অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। লুণ্ঠনকারীদের হাতে গণস্বাস্থ্য আর কখনো জিম্মি হতে দেওয়া হবে না—এই শপথে বলীয়ান এখন সাভারের সাধারণ মানুষ।