ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৈবর্তখালীর বিস্তীর্ণ মাঠে সূর্যমুখীর হাসি : পিরোজপুরে কৃষকের নতুন স্বপ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০ Time View
১২১

তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুরঃ পিরোজপুরের কৈবর্তখালী গ্রাম এখন শুধু একটি ফসলের মাঠ নয়, বরং এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা। সূর্যমুখীর হলুদ সমারোহে পুরো এলাকা যেন প্রকৃতির আঁকা এক মনোমুগ্ধকর ক্যানভাসে রূপ নিয়েছে। যেখানে একসময় ছিল শুধুই ধানক্ষেত, সেখানে এখন কৃষকের নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ঠিকানা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের এই কৈবর্তখালী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে দুলছে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। সূর্যের দিকে মুখ ফেরানো এসব ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বদলে দিয়েছে এলাকার কৃষি অর্থনীতির চিত্রও। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষও ভিড় করছেন এই দৃশ্য উপভোগ করতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে আড়াই টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম খরচ, কম শ্রম এবং তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে দ্রুত। তবে তারা সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষি কার্ডের আওতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

কৈবর্তখালী গ্রামের সূর্যমুখী চাষী খোকন বলেন, “এই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ পেয়েছি। সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও বেশি চাষ করতে পারতাম।”

একই গ্রামের মোস্তফা হাওলাদার জানান, “এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী করেছি। আগে কখনো করিনি। এখন বুঝছি এটা লাভজনক ফসল। সুযোগ পেলে সামনে আরও বাড়াবো।”

আরেক চাষী রফিক উদ্দিন বলেন, “ফলন ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পরই তেল উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। শুধু ফসল নয়, এখন এটা আমাদের এলাকার একটা আকর্ষণও হয়ে উঠেছে।”

অন্যদিকে, বিকেল হলেই এই মাঠ পরিণত হয় দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। নেছারাবাদ থেকে আসা মুন্নি আক্তার বলেন, “পরিবার নিয়ে এসেছি, খুব সুন্দর লাগছে। অনেক ছবি তুলেছি।”

পিরোজপুর শহর থেকে আসা আরমান ইসলাম বলেন, “ফুল মানে শুধু মেয়েদের বিষয় না, আমরা বন্ধুরাও খুব উপভোগ করেছি। এখানে এলে মনটা সত্যিই ভালো হয়ে যায়।”

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, কৃষকদের বীজ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কৈবর্তখালী এখন আর শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি কৃষকের স্বপ্ন, সৌন্দর্য আর সম্ভাবনার এক নতুন গল্প বলছে প্রতিদিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

কৈবর্তখালীর বিস্তীর্ণ মাঠে সূর্যমুখীর হাসি : পিরোজপুরে কৃষকের নতুন স্বপ্ন

Update Time : ১২:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
১২১

তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুরঃ পিরোজপুরের কৈবর্তখালী গ্রাম এখন শুধু একটি ফসলের মাঠ নয়, বরং এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা। সূর্যমুখীর হলুদ সমারোহে পুরো এলাকা যেন প্রকৃতির আঁকা এক মনোমুগ্ধকর ক্যানভাসে রূপ নিয়েছে। যেখানে একসময় ছিল শুধুই ধানক্ষেত, সেখানে এখন কৃষকের নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ঠিকানা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের এই কৈবর্তখালী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে দুলছে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। সূর্যের দিকে মুখ ফেরানো এসব ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বদলে দিয়েছে এলাকার কৃষি অর্থনীতির চিত্রও। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষও ভিড় করছেন এই দৃশ্য উপভোগ করতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে আড়াই টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম খরচ, কম শ্রম এবং তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে দ্রুত। তবে তারা সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষি কার্ডের আওতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

কৈবর্তখালী গ্রামের সূর্যমুখী চাষী খোকন বলেন, “এই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ পেয়েছি। সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরও বেশি চাষ করতে পারতাম।”

একই গ্রামের মোস্তফা হাওলাদার জানান, “এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী করেছি। আগে কখনো করিনি। এখন বুঝছি এটা লাভজনক ফসল। সুযোগ পেলে সামনে আরও বাড়াবো।”

আরেক চাষী রফিক উদ্দিন বলেন, “ফলন ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পরই তেল উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। শুধু ফসল নয়, এখন এটা আমাদের এলাকার একটা আকর্ষণও হয়ে উঠেছে।”

অন্যদিকে, বিকেল হলেই এই মাঠ পরিণত হয় দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। নেছারাবাদ থেকে আসা মুন্নি আক্তার বলেন, “পরিবার নিয়ে এসেছি, খুব সুন্দর লাগছে। অনেক ছবি তুলেছি।”

পিরোজপুর শহর থেকে আসা আরমান ইসলাম বলেন, “ফুল মানে শুধু মেয়েদের বিষয় না, আমরা বন্ধুরাও খুব উপভোগ করেছি। এখানে এলে মনটা সত্যিই ভালো হয়ে যায়।”

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, কৃষকদের বীজ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কৈবর্তখালী এখন আর শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি কৃষকের স্বপ্ন, সৌন্দর্য আর সম্ভাবনার এক নতুন গল্প বলছে প্রতিদিন।