ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় নারী কৃষকের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সভা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৫১ Time View
১০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় নারী কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিতে তাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আভাস প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, সিপিপির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, উপজেলা সহকারী কৃষি সমপ্রসারন অফিসার চিত্ত রঞ্জন শিকারি গণমাধ্যম কর্মী মেজবাহউদ্দিন মাননু, মিলন কর্মকার রাজু, আরিফ সুমন, ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নারী ইউপি সদস্য, নারী কৃষক প্রতিনিধি, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নারী কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পারিবারিক অর্থনীতিতে নারী কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংস্থা আভাস প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম ও কোস্ট ফাউন্ডেশন এ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. ইউনুছ, নারী জনপ্রতিনিধি মোসাম্মাৎ কুলসুম, নারী কৃষক মোসাম্মৎ আসমা, ডালিয়া, সুমনা, লামিয়া, মোসাম্মৎ জেসমিন, রুমা আক্তার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, নারী কৃষকদের স্বীকৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে উপকূলীয় কৃষি আরও শক্তিশালী হবে।

 

নারী কৃষকরা বলেন, কৃষিতে নারীর অবদান থাকা সত্ত্বেও ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রযুক্তি ও বাজার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা এখনও তারা পিছিয়ে রয়েছেন। এ অবস্থায় নারী কৃষকদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষি আইডি কার্ড প্রদান, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, নারীবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সমপ্রসারণ এবং স্থানীয় কৃষি পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সভায় নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সমপ্রসারণ, লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ, ভাসমান কৃষি, মিঠা পানি সংরক্ষণ, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি এবং নারী কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

কলাপাড়ায় নারী কৃষকের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সভা

Update Time : ১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
১০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় নারী কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিতে তাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আভাস প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, সিপিপির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, উপজেলা সহকারী কৃষি সমপ্রসারন অফিসার চিত্ত রঞ্জন শিকারি গণমাধ্যম কর্মী মেজবাহউদ্দিন মাননু, মিলন কর্মকার রাজু, আরিফ সুমন, ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নারী ইউপি সদস্য, নারী কৃষক প্রতিনিধি, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নারী কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পারিবারিক অর্থনীতিতে নারী কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংস্থা আভাস প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম ও কোস্ট ফাউন্ডেশন এ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. ইউনুছ, নারী জনপ্রতিনিধি মোসাম্মাৎ কুলসুম, নারী কৃষক মোসাম্মৎ আসমা, ডালিয়া, সুমনা, লামিয়া, মোসাম্মৎ জেসমিন, রুমা আক্তার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, নারী কৃষকদের স্বীকৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে উপকূলীয় কৃষি আরও শক্তিশালী হবে।

 

নারী কৃষকরা বলেন, কৃষিতে নারীর অবদান থাকা সত্ত্বেও ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রযুক্তি ও বাজার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা এখনও তারা পিছিয়ে রয়েছেন। এ অবস্থায় নারী কৃষকদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষি আইডি কার্ড প্রদান, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, নারীবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সমপ্রসারণ এবং স্থানীয় কৃষি পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সভায় নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সমপ্রসারণ, লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ, ভাসমান কৃষি, মিঠা পানি সংরক্ষণ, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি এবং নারী কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।