ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদের বেরিবাঁধসহ ধসে পড়ল স্লুইস ,পানিবন্দি সাত গ্রামের মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৫ Time View
৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রোতে সদরপুর স্লুইস ও বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।

সরেজমিনে জানা যায়, এ এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগরমোহনা-সংলগ্ন জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুরের তিন ভেন্টবিশিষ্ট একটি স্লুইস। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেড়িবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।

.
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।

.
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসটিতে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

 

স্থানীয় সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার কারণে পানি নামতে পারছে না। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’

 

সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা পাভেল বলেন, ‘গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করা হলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।

 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসসহ উপজেলার ১২৯টি স্লুইস নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

 

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদের বেরিবাঁধসহ ধসে পড়ল স্লুইস ,পানিবন্দি সাত গ্রামের মানুষ

Update Time : ১০:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রোতে সদরপুর স্লুইস ও বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।

সরেজমিনে জানা যায়, এ এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগরমোহনা-সংলগ্ন জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুরের তিন ভেন্টবিশিষ্ট একটি স্লুইস। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেড়িবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।

.
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।

.
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসটিতে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

 

স্থানীয় সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার কারণে পানি নামতে পারছে না। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’

 

সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা পাভেল বলেন, ‘গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করা হলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।

 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসসহ উপজেলার ১২৯টি স্লুইস নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

 

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।