ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে অভিযানে অর্ধকোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ Time View
৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল জব্দ করা হয়।

মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজার সহযোগিতা ও পরামর্শে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার এসআই মো. ফাহাদসহ পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে জব্দকৃত অবৈধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল। এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পরেছে।
অভিযান চলাকালে বাজারে মজুদ ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুদ বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুদ কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, “মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা অবৈধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে জনমত সৃষ্টি হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

উজিরপুরে অভিযানে অর্ধকোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ

Update Time : ০১:১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল জব্দ করা হয়।

মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজার সহযোগিতা ও পরামর্শে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার এসআই মো. ফাহাদসহ পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে জব্দকৃত অবৈধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল। এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পরেছে।
অভিযান চলাকালে বাজারে মজুদ ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুদ বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুদ কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, “মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা অবৈধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে জনমত সৃষ্টি হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।