ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবিশ্বাস্য গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তো বটেই, ফুটবল বিধাতাও হয়তো লিওনেল মেসির এমন বেদনাবিধুর বিদায় চাননি।তা না হলে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা যে আর্জেন্টিনা বিদায়ের প্রহর গুনছিল তারায় এমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন রচনা করে কিভাবে।খাদের কিনারে থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটির রূপকথার গল্প থেকে কোন অংশে কম নয়।পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোলে সমতা ফেরার পর অতিরিক্ত সময়ে মিশরের হৃদয় ভেঙে জয়সূচক গোল।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধরকর ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।

 

.
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটে পজিশনের ভুলে দুইবার বল হারায় দলটি। এরপর ১৪ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি কিক থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোলটি করেন ইয়াসির ইব্রাহিম।

 

পাঁচ মিনিট পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে ফাউলের শিকার হন নিকলাস তালিয়াফিকো। স্পট কিক নেন মেসি নিজেই। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর দারুণভাবে সেই শট ঠেকিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

.
এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান শোবেইর। ম্যাক আলিস্টারের কাছের শট থেকে দুর্দান্ত এক সেভ করেন তিনি। এরপর আলভারেজের শটও ঠেকিয়ে দেন। মেসির একটি ফ্রি কিক গিয়ে লাগে বারপোস্টে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে মিশরের এগিয়ে থাকা অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখায় মিশর। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মুস্তাফা জিকো। তবে কিছুক্ষণ পরই ভিএআর যাচাইয়ের পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। বিল্ড আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

 

তবে বাতিল হওয়া গোলের পরও থেমে থাকেননি জিকো। ৬৭ মিনিটে ট্রানজিশন থেকে আবারও গোল করেন তিনি। এতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। মনে হচ্ছিল, বিদায়ের দুয়ারে চলে গেছে দলটি।

 

তবে ম্যাচের শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এই শটেও হাত ছুঁয়েছিলেন শোবেইর, তবে বল ঠেকাতে পারেননি তিনি। এই গোলে ফের ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা।

 

এরপর ৮৩ মিনিটের মাথায় আসে মেসির অবিশ্বাস্য এক গোল। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার শট প্রথমে শোবেইরের হাতে লাগে। এরপর বল গিয়ে জড়ায় জালে। সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

 

এরপর যোগ করা সময়ে আসে জয়সূচক গোল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং সেই ব্যবধান ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দলটি।

 

এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অবিশ্বাস্য গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Update Time : ০৪:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তো বটেই, ফুটবল বিধাতাও হয়তো লিওনেল মেসির এমন বেদনাবিধুর বিদায় চাননি।তা না হলে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা যে আর্জেন্টিনা বিদায়ের প্রহর গুনছিল তারায় এমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন রচনা করে কিভাবে।খাদের কিনারে থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটির রূপকথার গল্প থেকে কোন অংশে কম নয়।পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোলে সমতা ফেরার পর অতিরিক্ত সময়ে মিশরের হৃদয় ভেঙে জয়সূচক গোল।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধরকর ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।

 

.
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটে পজিশনের ভুলে দুইবার বল হারায় দলটি। এরপর ১৪ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি কিক থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোলটি করেন ইয়াসির ইব্রাহিম।

 

পাঁচ মিনিট পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে ফাউলের শিকার হন নিকলাস তালিয়াফিকো। স্পট কিক নেন মেসি নিজেই। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর দারুণভাবে সেই শট ঠেকিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।

.
এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান শোবেইর। ম্যাক আলিস্টারের কাছের শট থেকে দুর্দান্ত এক সেভ করেন তিনি। এরপর আলভারেজের শটও ঠেকিয়ে দেন। মেসির একটি ফ্রি কিক গিয়ে লাগে বারপোস্টে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে মিশরের এগিয়ে থাকা অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখায় মিশর। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মুস্তাফা জিকো। তবে কিছুক্ষণ পরই ভিএআর যাচাইয়ের পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। বিল্ড আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

 

তবে বাতিল হওয়া গোলের পরও থেমে থাকেননি জিকো। ৬৭ মিনিটে ট্রানজিশন থেকে আবারও গোল করেন তিনি। এতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। মনে হচ্ছিল, বিদায়ের দুয়ারে চলে গেছে দলটি।

 

তবে ম্যাচের শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এই শটেও হাত ছুঁয়েছিলেন শোবেইর, তবে বল ঠেকাতে পারেননি তিনি। এই গোলে ফের ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা।

 

এরপর ৮৩ মিনিটের মাথায় আসে মেসির অবিশ্বাস্য এক গোল। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার শট প্রথমে শোবেইরের হাতে লাগে। এরপর বল গিয়ে জড়ায় জালে। সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

 

এরপর যোগ করা সময়ে আসে জয়সূচক গোল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং সেই ব্যবধান ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দলটি।

 

এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।