ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৪ Time View
৩৪৮

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন। গত মাসে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর প্রথমবারের মতো বড় আকারের আন্দোলনের মুখে পড়ল দেশটির সরকার। শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক স্থানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে কয়েক শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন।

অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। তারা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন, যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উদ্দেশ করে বলা হয়। একই এলাকায় সরকারপন্থী একটি পাল্টা সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।

এছাড়া আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও সরকারবিরোধী স্লোগানের ফুটেজ যাচাই করেছে বিবিসি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও’ স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

দিনের পরবর্তী সময়ে অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় এবং রবিবার সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানুয়ারিতে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। গত মাসের আন্দোলন প্রথমে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) দাবি করেছে, ওই দমন-পীড়নে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি। সংস্থাটি আরো ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তাকর্মী বা ‘দাঙ্গাবাজদের’ হামলার শিকার সাধারণ মানুষ।

 

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

 

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও ট্রাম্প বলেছেন, ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ বোঝা যাবে চুক্তি হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

নির্বাসিত বিরোধীরা যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেও দেশের ভেতরের অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে উভয় পক্ষই জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ইরান

Update Time : ০৭:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩৪৮

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন। গত মাসে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর প্রথমবারের মতো বড় আকারের আন্দোলনের মুখে পড়ল দেশটির সরকার। শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক স্থানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে কয়েক শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন।

অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। তারা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন, যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উদ্দেশ করে বলা হয়। একই এলাকায় সরকারপন্থী একটি পাল্টা সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।

এছাড়া আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও সরকারবিরোধী স্লোগানের ফুটেজ যাচাই করেছে বিবিসি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও’ স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

দিনের পরবর্তী সময়ে অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় এবং রবিবার সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানুয়ারিতে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। গত মাসের আন্দোলন প্রথমে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) দাবি করেছে, ওই দমন-পীড়নে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি। সংস্থাটি আরো ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তাকর্মী বা ‘দাঙ্গাবাজদের’ হামলার শিকার সাধারণ মানুষ।

 

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

 

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানো হলেও ট্রাম্প বলেছেন, ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ বোঝা যাবে চুক্তি হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

নির্বাসিত বিরোধীরা যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেও দেশের ভেতরের অন্য বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে উভয় পক্ষই জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।