ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে লিগ্যাল নোটিশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২১ Time View
১৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোলা জেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

 

এর আগে ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্টদের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী।

 

আবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা, যার জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

 

ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন, নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা অধিকাংশ সময়েই কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন, কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

 

স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ভোলা জেলার স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন সাধিত হয়নি। জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জনস্বার্থে গভীরভাবে চিন্তা ও উদ্বেগের।

 

ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন এবং নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় এই জেলার জনগণের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়ে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে স্থায়ী অসুস্থতাকে জীবনের সঙ্গী করে নিচ্ছেন।

 

জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা ভাতা কমপ্লেক্সগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

 

এছাড়াও জরুরি চিকিৎসা নিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজে পৌঁছাতে ৪/৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এছাড়াও স্থল পথে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভোলার জনগণ এই অধিকার থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থি।

এই প্রেক্ষাপটে, ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী।

আইনজীবী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরও ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে লিগ্যাল নোটিশ

Update Time : ০৬:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোলা জেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

 

এর আগে ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্টদের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী।

 

আবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা, যার জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

 

ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন, নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা অধিকাংশ সময়েই কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন, কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

 

স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ভোলা জেলার স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন সাধিত হয়নি। জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জনস্বার্থে গভীরভাবে চিন্তা ও উদ্বেগের।

 

ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন এবং নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় এই জেলার জনগণের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়ে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে স্থায়ী অসুস্থতাকে জীবনের সঙ্গী করে নিচ্ছেন।

 

জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা ভাতা কমপ্লেক্সগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

 

এছাড়াও জরুরি চিকিৎসা নিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজে পৌঁছাতে ৪/৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এছাড়াও স্থল পথে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভোলার জনগণ এই অধিকার থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থি।

এই প্রেক্ষাপটে, ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী।

আইনজীবী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরও ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করবো।