
নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে নতুন এক ফাঁদ পেতেছে জামায়াত।
পরিকল্পিত উস্কানির মাধ্যমে মার খেয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের তারা বোঝাচ্ছে যে, ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে তায়েফ শহরে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও ঠিক তেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন। ফজরের নামাজের পরপরই কৌশলে সাধারণ মুসল্লী ও কর্মীদের নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সংঘর্ষের পর্যায়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রচার করা যে, বিএনপি কর্তৃক জামায়াত নির্যাতিত হচ্ছে। ভোলার ২ আসন বোরহানগঞ্জে গত ২৫ জানুয়ারি এবং টগবী মনিরামে ঘটা দুটি ধারাবাহিক ঘটনা জামায়াতের এই নতুন প্রচারণামূলক কৌশলেরই ইঙ্গিত দেয়।
মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক জামায়াত বিষয়ে বলেন, “জামায়াত ক্ষমতার লোভে নিজেদের সংবিধানে অগণিত বিকৃতি এনেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসলামি আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে কীভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
জামায়াত নিজেদের ‘শতভাগ আল্লাহর দল’ দাবি করে প্রতি রমজানে যাকাত এবং বছরজুড়ে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়তুল মাল’। অথচ পবিত্র কোরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে এবং সহিহ বুখারির ১৪০০ নম্বর হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যাকাত সংগ্রহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নবী করীম (সা.) যাকাত আদায়ের জন্য সরকারি গভর্নর নিযুক্ত করতেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাজ; ব্যক্তি বা সংগঠন পর্যায়ে গোপনে যাকাত সংগ্রহের কোনো বিধান নেই।
অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত পবিত্র কোরআনের বিশেষ কিছু আয়াতের অর্থ নিজেদের মতো করে সাজিয়ে প্রচার করছে। তাদের ‘সংগঠন পদ্ধতি’ বইয়ের ১৫ ও ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম, ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ এবং যাকাত সংগ্রহের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত ইসলামের নামে অর্থ সংগ্রহেরই কৌশল।
পবিত্র কোরআনের সূরা বাইয়্যিনাহ-এর ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ইবাদত, সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু জামায়াত তাদের ‘জিহাদের হাকিকত’ সহ বিভিন্ন বইয়ে এই আয়াতের অনুবাদে ইবাদত, সালাত ও যাকাতের মূল তাৎপর্যের পরিবর্তে ‘দ্বীন কায়েম’ শব্দটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষ কোরআনের গভীর অর্থ না জানায় এই রাজনৈতিক প্রচারণাকেই ধর্ম মনে করে তাদের সময় ও অর্থ ব্যয় করছে।
জামায়াত নিজেদের বড় ইসলামি দল দাবি করলেও তাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধেই রাসুলুল্লাহ (সা.)এর সুন্নাহ লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সহিহ বুখারি (৫৮৯২) ও মুসলিম (২৬১) শরীফের হাদিস অনুযায়ী দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ থাকলেও অনেক নেতাই তা মানছেন না। এছাড়া নামাজের ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)এর শেখানো পদ্ধতি বা ‘রফউল ইয়াদাইন’ (রুকুতে যাওয়ার আগে হাত তোলা), যা বুখারি ৭৩৫,৭৩৬ ও মুসলিমের একাধিক সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠায় বা পালনে তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর বিভিন্ন সংস্কারের চাপ দিলেও সুন্নাহ সম্মত আমলগুলো জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বা নিজেরা পালন করতে তাদের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই দ্বিচারিতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। গত ৩১ জানুয়ারি টগবী ইউনিয়নে মহিলারা জামায়াতের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষিত সমাজ যত বাড়বে, ধর্মের নামে এমন রাজনৈতিক ব্যবসার মুখোশ ততই উন্মোচিত হবে।
Reporter Name 









