ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ : এলাকায় চাঞ্চল্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৫২ Time View
১০২
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদান করা বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের একটি গাছ কাটার মৌখিক অনুমতি দিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা খান মো. মাসুম মোস্তফা কাওসার।
স্থানীয়দের দাবি, যোগদানের এক সপ্তাহ না পেরুতেই অফিস স্টাফের মাধ্যমে গাছটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের উত্তর রহমতপুর এলাকায় সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়কের পাশে রোপণ করা একটি বড় আকারের আকাশমনি গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার  (৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, রহমতপুর ইউনিয়নের আলী মার্কেট ও ফেরদৌসী খানম শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝামাঝি সড়কের পাশে একটি আকাশমনি গাছ কাটছেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার।
গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে দুলাল হাওলাদার বলেন, বন বিভাগের প্ল্যান্টেশন মালি মো. জাকির হোসেন তাকে গাছটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাবেক বন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি চলতি মাসের ৩ মে বাবুগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
পরে বর্তমান বন কর্মকর্তা খান মো. মাসুম মোস্তফা কাওসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সদ্য বাবুগঞ্জে যোগদান করায় ঘটনাটি তার জানা নেই।
তবে কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে বন কর্মকর্তা কাওসারের অবস্থান নিশ্চিত করেন। সেখানে তাকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে চা আড্ডায় দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন কর্মকর্তা বলেন, গাছ কাটার কারও এক্তিয়ার নেই বলে জানি। পরে তিনি দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান।
পরবর্তীতে আবারও জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গাছ কাটার কোনো অনুমতি তিনি দেননি। তবে তার অফিসের এক পিয়ন মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমতির কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অফিস স্টাফ জাকির হোসেনের মাধ্যমে গাছটি বিক্রির চেষ্টা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের প্ল্যান্টেশন মালি মো. জাকির হোসেন সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাবুগঞ্জে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ : এলাকায় চাঞ্চল্য

Update Time : ১০:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
১০২
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)প্রতিনিধি : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদান করা বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের একটি গাছ কাটার মৌখিক অনুমতি দিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা খান মো. মাসুম মোস্তফা কাওসার।
স্থানীয়দের দাবি, যোগদানের এক সপ্তাহ না পেরুতেই অফিস স্টাফের মাধ্যমে গাছটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের উত্তর রহমতপুর এলাকায় সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়কের পাশে রোপণ করা একটি বড় আকারের আকাশমনি গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার  (৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, রহমতপুর ইউনিয়নের আলী মার্কেট ও ফেরদৌসী খানম শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝামাঝি সড়কের পাশে একটি আকাশমনি গাছ কাটছেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার।
গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে দুলাল হাওলাদার বলেন, বন বিভাগের প্ল্যান্টেশন মালি মো. জাকির হোসেন তাকে গাছটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাবেক বন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি চলতি মাসের ৩ মে বাবুগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
পরে বর্তমান বন কর্মকর্তা খান মো. মাসুম মোস্তফা কাওসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সদ্য বাবুগঞ্জে যোগদান করায় ঘটনাটি তার জানা নেই।
তবে কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে বন কর্মকর্তা কাওসারের অবস্থান নিশ্চিত করেন। সেখানে তাকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে চা আড্ডায় দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন কর্মকর্তা বলেন, গাছ কাটার কারও এক্তিয়ার নেই বলে জানি। পরে তিনি দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান।
পরবর্তীতে আবারও জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গাছ কাটার কোনো অনুমতি তিনি দেননি। তবে তার অফিসের এক পিয়ন মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমতির কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অফিস স্টাফ জাকির হোসেনের মাধ্যমে গাছটি বিক্রির চেষ্টা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের প্ল্যান্টেশন মালি মো. জাকির হোসেন সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।