ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় কর্মবিরতি : নগরের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৯৬ Time View
২৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আগে উৎসব ভাতা (বোনাস) ও ৩০ দিনের বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এর পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

 

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে নগর জুড়ে ময়লা জমে আছে। বোনাসের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অবব্যাহত থাকবে বলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বক্তব্য।

 

এদিকে বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধ সয়ে তবেই নগরবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তারা চান এই বর্তমান পরিবেশ থেকে দ্রুত রেহাই পেতে।

 

কর্মবিরতি চলাকালে বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশ করেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এরআগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে নগরের আমানতগঞ্জ এলাকার সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখা অফিসের সামনে কর্মবিরতির ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

 

এসময় কর্মচারীরা বলেন, বিগত দিনে বেতন ও বোনাস দেয়া হলেও সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের শ্রমিক বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বোনাস দেয়া হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। এছাড়া আমার পূর্ণ মাস অর্থাৎ ৩০ দিন আমরা কাজ করলেও বেতন দেয়া হচ্ছে ২২ দিনের।  এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললেও তারা কোন সুরাহা না করে সময় পার করতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে কর্মবিরতির ডাক দেয়।

 

শ্রমিকরা বলেন, বেতন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাড়া হয়েছে কিন্তু বোনাস দিবে না। পরে আমরা বিক্ষোভ করলে ইফতারের নামে ১ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেছে কিন্তু আওতায় না থাকায় বোনাস দিবে না। কিন্তু আমরা সরকারের কাছে পূর্ণ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবি জানাচ্ছি।

 

এরআগে মঙ্গলবার দুপুরে অশ্বিনীকুমার হলের সামনে ঈদের আগে উৎসব ভাতার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

 

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কালু ও শাহিন বলেন, ৩০ দিন কাজ করে তাঁরা বেতন পান ২২ দিনের। গত বছরও উৎসব ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তে বোনাস দিচ্ছে না।  বোনাস দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছ থেকে দুই দিনের সময় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়ে দেন ‘নিয়ম নেই’।

 

তাঁরা বলেন, সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অথচ মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তা পরিষ্কার তাঁরাই করেন।

 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মজুরি বাড়ায় দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না।

 

তবে শ্রমিকদের দাবি, অন্য সবাই বোনাস পেলেও শুধু তাদের বঞ্চিত করা চরম অবিচার। শ্রমিক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, নিজেদের গায়ে দুর্গন্ধ লাগিয়ে আমরা শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ উৎসবের সময় আমাদের সামর্থ্য থাকে না পরিবার নিয়ে আনন্দ করার।

 

আরেক কর্মী পারুল বেগম জানান, বর্তমান বাজারে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন, তার ওপর বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

শ্রমিক নেতা সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।

 

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন করলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।

 

উল্লেখ্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৩৯৪ জন পরিচ্ছন্নতা এবং ৩১৪ জন ঝাড়ুদার রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় কর্মবিরতি : নগরের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ

Update Time : ০২:১৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আগে উৎসব ভাতা (বোনাস) ও ৩০ দিনের বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এর পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

 

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে নগর জুড়ে ময়লা জমে আছে। বোনাসের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অবব্যাহত থাকবে বলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বক্তব্য।

 

এদিকে বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধ সয়ে তবেই নগরবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তারা চান এই বর্তমান পরিবেশ থেকে দ্রুত রেহাই পেতে।

 

কর্মবিরতি চলাকালে বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশ করেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এরআগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে নগরের আমানতগঞ্জ এলাকার সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখা অফিসের সামনে কর্মবিরতির ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

 

এসময় কর্মচারীরা বলেন, বিগত দিনে বেতন ও বোনাস দেয়া হলেও সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের শ্রমিক বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বোনাস দেয়া হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। এছাড়া আমার পূর্ণ মাস অর্থাৎ ৩০ দিন আমরা কাজ করলেও বেতন দেয়া হচ্ছে ২২ দিনের।  এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললেও তারা কোন সুরাহা না করে সময় পার করতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে কর্মবিরতির ডাক দেয়।

 

শ্রমিকরা বলেন, বেতন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাড়া হয়েছে কিন্তু বোনাস দিবে না। পরে আমরা বিক্ষোভ করলে ইফতারের নামে ১ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেছে কিন্তু আওতায় না থাকায় বোনাস দিবে না। কিন্তু আমরা সরকারের কাছে পূর্ণ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবি জানাচ্ছি।

 

এরআগে মঙ্গলবার দুপুরে অশ্বিনীকুমার হলের সামনে ঈদের আগে উৎসব ভাতার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

 

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কালু ও শাহিন বলেন, ৩০ দিন কাজ করে তাঁরা বেতন পান ২২ দিনের। গত বছরও উৎসব ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তে বোনাস দিচ্ছে না।  বোনাস দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছ থেকে দুই দিনের সময় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়ে দেন ‘নিয়ম নেই’।

 

তাঁরা বলেন, সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অথচ মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তা পরিষ্কার তাঁরাই করেন।

 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মজুরি বাড়ায় দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না।

 

তবে শ্রমিকদের দাবি, অন্য সবাই বোনাস পেলেও শুধু তাদের বঞ্চিত করা চরম অবিচার। শ্রমিক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, নিজেদের গায়ে দুর্গন্ধ লাগিয়ে আমরা শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ উৎসবের সময় আমাদের সামর্থ্য থাকে না পরিবার নিয়ে আনন্দ করার।

 

আরেক কর্মী পারুল বেগম জানান, বর্তমান বাজারে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন, তার ওপর বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

শ্রমিক নেতা সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।

 

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন করলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।

 

উল্লেখ্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৩৯৪ জন পরিচ্ছন্নতা এবং ৩১৪ জন ঝাড়ুদার রয়েছে।