ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ইভিএমের পেছনে ‘অহেতুক’ ব্যয় : সচল রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪ Time View
১২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকল্প বাতিল হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেশিন রাখতে বরিশালে প্রতি মাসে গুদাম ভাড়া গুণতে হচ্ছে তিন লাখ টাকা। বিভাগের দুটি জেলার গুদামে পড়ে আছে ১৫০ কোটি টাকার ৪ হাজারের বেশি যন্ত্র। অর্ধেকই অকেজো হলেও ভাড়াবাবদ গচ্চা দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। সরকারি অর্থের বিপুল অপচয় বন্ধে এসব ইভিএম নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের মে মাসে বরিশাল নির্বাচন অফিসে ২ হাজার ২৬৮টি ইভিএম মেশিন সরবরাহ করা হয়। পর্যায়ক্রমে পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে পোঁছায় আরও ২ হাজার ৮১৯টি যন্ত্র।

প্রায় ১৫৫ কোটি টাকায় কেনা এসব যন্ত্র কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আংশিকভাবে ব্যবহার হলেও পরে অনেক মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ইভিএম প্রকল্পই বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বরিশাল ও পটুয়াখালীর গুদামে অচলপ্রায় মেশিনগুলো রাখতে প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। ইভিএম মেশিন রাখতে সাড়ে তিন বছরেই ২ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা গুদাম ভাড়া দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী ইভিএমগুলো আমরা গুদামে রেখেছি। এখনও সেগুলো ওই অবস্থায় আছে। পরবর্তীতে যদি কোনো নির্দেশনা আসে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইলেকট্রনিক মেশিন যদি কোনো মেইনটেন্যান্স ছাড়া দীর্ঘদিন পড়ে থাকে তাহলে তো সেগুলোতে সমস্যা হতেই পারে।

সবশেষ পরীক্ষার সময় দেখা যায়, অর্ধেক যন্ত্রই অকেজো। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে অকেজো যন্ত্রগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।

সুজন জেলা সম্পাদক রনজিত দত্ত বলেন, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিচক্ষণ হওয়া দরকার। যেহেতু রাষ্ট্র বড় আকারের বাজেট ব্যয় করছে এর জন্য। আবার এগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় গুদামে রাখায় সরকার অনেক টাকা ভাড়া গুনছে। রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে ব্যয়ের কোনো যুক্তি নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালে ইভিএমের পেছনে ‘অহেতুক’ ব্যয় : সচল রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা

Update Time : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
১২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকল্প বাতিল হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেশিন রাখতে বরিশালে প্রতি মাসে গুদাম ভাড়া গুণতে হচ্ছে তিন লাখ টাকা। বিভাগের দুটি জেলার গুদামে পড়ে আছে ১৫০ কোটি টাকার ৪ হাজারের বেশি যন্ত্র। অর্ধেকই অকেজো হলেও ভাড়াবাবদ গচ্চা দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। সরকারি অর্থের বিপুল অপচয় বন্ধে এসব ইভিএম নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের মে মাসে বরিশাল নির্বাচন অফিসে ২ হাজার ২৬৮টি ইভিএম মেশিন সরবরাহ করা হয়। পর্যায়ক্রমে পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে পোঁছায় আরও ২ হাজার ৮১৯টি যন্ত্র।

প্রায় ১৫৫ কোটি টাকায় কেনা এসব যন্ত্র কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আংশিকভাবে ব্যবহার হলেও পরে অনেক মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ইভিএম প্রকল্পই বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বরিশাল ও পটুয়াখালীর গুদামে অচলপ্রায় মেশিনগুলো রাখতে প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। ইভিএম মেশিন রাখতে সাড়ে তিন বছরেই ২ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা গুদাম ভাড়া দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী ইভিএমগুলো আমরা গুদামে রেখেছি। এখনও সেগুলো ওই অবস্থায় আছে। পরবর্তীতে যদি কোনো নির্দেশনা আসে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইলেকট্রনিক মেশিন যদি কোনো মেইনটেন্যান্স ছাড়া দীর্ঘদিন পড়ে থাকে তাহলে তো সেগুলোতে সমস্যা হতেই পারে।

সবশেষ পরীক্ষার সময় দেখা যায়, অর্ধেক যন্ত্রই অকেজো। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে অকেজো যন্ত্রগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।

সুজন জেলা সম্পাদক রনজিত দত্ত বলেন, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিচক্ষণ হওয়া দরকার। যেহেতু রাষ্ট্র বড় আকারের বাজেট ব্যয় করছে এর জন্য। আবার এগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় গুদামে রাখায় সরকার অনেক টাকা ভাড়া গুনছে। রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে ব্যয়ের কোনো যুক্তি নেই।