ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে মুগ ডালের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ১১১ Time View
২৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলা জুড়ে এবার মুগডালের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আশায় দিন গুনছেন মুগ চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বপন এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহে আশাবাদী হয়ে উঠেছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মুগডালের ক্ষেতগুলোতে গাছের সুস্থ বৃদ্ধি এবং ভালো ফলনের আভাস মিলছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় মোট ৮৬ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৮ হাজার হেক্টর। তবে তরমুজের আবাদ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় মুগডালের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সামান্য কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল রহিম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় মুগডালের গাছ বেশ সতেজ আছে। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। যদি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

একই উপজেলার বগা ইউনিয়নের ধাউড়াভাঙা এলাকার কৃষক শাহালম মীরা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলনের আশা বেশি। বীজ, সার ও কীটনাশক সময়মতো পাওয়ায় চাষাবাদ করতে সুবিধা হয়েছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও ভালো ফলন হলে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

 

দশমিনা উপজেলার মুগ চাষি সঞ্জয় ব্যানার্জি বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জমি প্রস্তুত করেছি। গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। এখন যদি অতিবৃষ্টি না হয়, তাহলে ফলন অনেক ভালো হবে বলে আশা করছি।

রাঙ্গাবালি উপজেলার কৃষক কেরামত আলি বলেন, মুগডাল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায়। এবার ক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালোই হবে। তবে বৃষ্টি বেশি হলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা আছে, সেটাই এখন বড় চিন্তা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মুগডাল একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বাড়ছে। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এই ফসলের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ সরবরাহ এবং রোগবালাই দমনে কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৬ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার হেক্টর। তবে তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা কমেছে। প্রতি হেক্টরে ১ দশমিক ২ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া মুগডাল চাষের জন্য বেশ অনুকূল। হালকা বৃষ্টির কারণে গাছ সতেজ রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

পটুয়াখালীতে মুগ ডালের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা

Update Time : ১১:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
২৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলা জুড়ে এবার মুগডালের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আশায় দিন গুনছেন মুগ চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বপন এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহে আশাবাদী হয়ে উঠেছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মুগডালের ক্ষেতগুলোতে গাছের সুস্থ বৃদ্ধি এবং ভালো ফলনের আভাস মিলছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় মোট ৮৬ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৮ হাজার হেক্টর। তবে তরমুজের আবাদ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় মুগডালের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সামান্য কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল রহিম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় মুগডালের গাছ বেশ সতেজ আছে। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। যদি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

একই উপজেলার বগা ইউনিয়নের ধাউড়াভাঙা এলাকার কৃষক শাহালম মীরা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলনের আশা বেশি। বীজ, সার ও কীটনাশক সময়মতো পাওয়ায় চাষাবাদ করতে সুবিধা হয়েছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও ভালো ফলন হলে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

 

দশমিনা উপজেলার মুগ চাষি সঞ্জয় ব্যানার্জি বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জমি প্রস্তুত করেছি। গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। এখন যদি অতিবৃষ্টি না হয়, তাহলে ফলন অনেক ভালো হবে বলে আশা করছি।

রাঙ্গাবালি উপজেলার কৃষক কেরামত আলি বলেন, মুগডাল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায়। এবার ক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালোই হবে। তবে বৃষ্টি বেশি হলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা আছে, সেটাই এখন বড় চিন্তা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মুগডাল একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বাড়ছে। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এই ফসলের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ সরবরাহ এবং রোগবালাই দমনে কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৬ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে মুগডালের আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার হেক্টর। তবে তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা কমেছে। প্রতি হেক্টরে ১ দশমিক ২ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া মুগডাল চাষের জন্য বেশ অনুকূল। হালকা বৃষ্টির কারণে গাছ সতেজ রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।