ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৬৪ Time View
১১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মশিউর রহমান ঈসা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে কনা দুমকি উপজেলা আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরান। একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “কোন বক্তব্য লাগবে না, ওটা যেরকম আছে সেরকম রেখে দেন,”-এ কথা বলে ফোন কেটে দেন।

এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

Update Time : ০২:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
১১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মশিউর রহমান ঈসা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে কনা দুমকি উপজেলা আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরান। একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “কোন বক্তব্য লাগবে না, ওটা যেরকম আছে সেরকম রেখে দেন,”-এ কথা বলে ফোন কেটে দেন।

এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।