ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ, গ্রেফতার ২

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫৮ Time View
৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিহত ব্যক্তি ও গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক যুবকের মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাব-৮ বরিশালের সহযোগিতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতাররা হলেন বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তারিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪) এবং পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ও গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।’

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাসকে কৌশলে মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামে সন্ধ্যা নদীর তীরে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যায় সম্রাট ও রাজু। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরে ওইদিন বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তবে হত্যার পর নিহতের মাথা এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেয়ায় এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই র‍্যাবের সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ব্রেকিং নিউজ এলার্ট

এদিকে, ইটভাটার প্রবেশপথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ইটভাটায় প্রবেশ করে। কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেলে রাজু ও সম্রাটকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

পরে ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র‍্যাব সদস্যরা শনিবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে এবং রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেফতার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

নেছারাবাদে মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ, গ্রেফতার ২

Update Time : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিহত ব্যক্তি ও গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক যুবকের মাথাবিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাব-৮ বরিশালের সহযোগিতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতাররা হলেন বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তারিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪) এবং পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ও গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।’

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র দাসকে কৌশলে মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামে সন্ধ্যা নদীর তীরে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যায় সম্রাট ও রাজু। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরে ওইদিন বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তবে হত্যার পর নিহতের মাথা এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেয়ায় এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই র‍্যাবের সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ব্রেকিং নিউজ এলার্ট

এদিকে, ইটভাটার প্রবেশপথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ইটভাটায় প্রবেশ করে। কিছু সময় পর একই মোটরসাইকেলে রাজু ও সম্রাটকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

পরে ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র‍্যাব সদস্যরা শনিবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকার গণপাড়া থেকে সম্রাটকে এবং রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেফতার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।