ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান, প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট মালিক-শ্রমিকদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১৫৫ Time View
২৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযানের প্রতিবাদে ভোলা-চরফ্যাশন আন্তমহাসড়কসহ সাতটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস ও মিনিবাস শ্রমিকেরা। আজ সোমবার দুপুর থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে সমর্থন দিয়েছে জেলার বাস মালিক সমিতি।

বন্ধ থাকা রুটগুলো হলো ভোলা-চরফ্যাশন, ভোলা-দৌলতখান, ভোলা-ইলিশা, ভোলা-ভেদুরিয়া, ভোলা-তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন-দুলারহাট এবং চরফ্যাশন-ল্যাতরা-দক্ষিণ আইচা। ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে বাড়তি খরচে গন্তব্যে রওনা হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরফ্যাশন শহরের যানজট কমাতে পৌরসভার মুখরবান্দা এলাকায় একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়। সিদ্ধান্ত ছিল, ভোলাগামী বাস ও সিএনজি ওই স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে এবং দক্ষিণাঞ্চলের রুটের যানবাহন বিআরডিবি মোড় থেকে চলাচল করবে। তবে অভিযোগ আছে, বাস ও সিএনজি চালকেরা সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মানছিলেন না। এতে শহরে আবারও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আজ দুপুরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দূরপাল্লার বাসগুলোকে নতুন বাসস্ট্যান্ডে সরিয়ে দেয়। এরপরই বাসশ্রমিকেরা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

 

চরফ্যাশন উপজেলার দায়িত্বে থাকা ভোলা বাস মালিক সমিতির সদস্য রিয়াজ শিকদার বলেন, তাঁরা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভার সব সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও সিএনজিচালকেরা শহরের কোনাকাঞ্চি, ঘুপচি থেকে যাত্রী তুলে চরফ্যাশন থেকে ভোলাসহ ইলিশা ও ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট যাচ্ছিল। এতে বাসমালিকেরা তেমন যাত্রী পাচ্ছিল না।

 

চরফ্যাশন সিএনজি মালিক-চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হাওলাদার বলেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত মানলেও বাসমালিক সমিতি মানেনি। তাই প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে।

 

বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসন ও সিএনজিচালকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁদের বাসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। চালকদের ওপরও হামলার অভিযোগ আছে। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

ভোলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ভোলা-চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা সড়কটি আন্তমহাসড়ক। এ সড়কে বাস চলাচলে বাধা দিলে পরিবহন চলাচল ব্যাহত হবে।

 

ধর্মঘট ডাকার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাস সিএনজিকে সরাতে বলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

চরফ্যাশনে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান, প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট মালিক-শ্রমিকদের

Update Time : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
২৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযানের প্রতিবাদে ভোলা-চরফ্যাশন আন্তমহাসড়কসহ সাতটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস ও মিনিবাস শ্রমিকেরা। আজ সোমবার দুপুর থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে সমর্থন দিয়েছে জেলার বাস মালিক সমিতি।

বন্ধ থাকা রুটগুলো হলো ভোলা-চরফ্যাশন, ভোলা-দৌলতখান, ভোলা-ইলিশা, ভোলা-ভেদুরিয়া, ভোলা-তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন-দুলারহাট এবং চরফ্যাশন-ল্যাতরা-দক্ষিণ আইচা। ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে বাড়তি খরচে গন্তব্যে রওনা হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরফ্যাশন শহরের যানজট কমাতে পৌরসভার মুখরবান্দা এলাকায় একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়। সিদ্ধান্ত ছিল, ভোলাগামী বাস ও সিএনজি ওই স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে এবং দক্ষিণাঞ্চলের রুটের যানবাহন বিআরডিবি মোড় থেকে চলাচল করবে। তবে অভিযোগ আছে, বাস ও সিএনজি চালকেরা সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মানছিলেন না। এতে শহরে আবারও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আজ দুপুরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দূরপাল্লার বাসগুলোকে নতুন বাসস্ট্যান্ডে সরিয়ে দেয়। এরপরই বাসশ্রমিকেরা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

 

চরফ্যাশন উপজেলার দায়িত্বে থাকা ভোলা বাস মালিক সমিতির সদস্য রিয়াজ শিকদার বলেন, তাঁরা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভার সব সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও সিএনজিচালকেরা শহরের কোনাকাঞ্চি, ঘুপচি থেকে যাত্রী তুলে চরফ্যাশন থেকে ভোলাসহ ইলিশা ও ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট যাচ্ছিল। এতে বাসমালিকেরা তেমন যাত্রী পাচ্ছিল না।

 

চরফ্যাশন সিএনজি মালিক-চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হাওলাদার বলেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত মানলেও বাসমালিক সমিতি মানেনি। তাই প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে।

 

বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসন ও সিএনজিচালকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁদের বাসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। চালকদের ওপরও হামলার অভিযোগ আছে। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

ভোলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ভোলা-চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা সড়কটি আন্তমহাসড়ক। এ সড়কে বাস চলাচলে বাধা দিলে পরিবহন চলাচল ব্যাহত হবে।

 

ধর্মঘট ডাকার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাস সিএনজিকে সরাতে বলা হয়েছে।