ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যার ১০০ দিন : ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের বিচার দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৫ Time View
১৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক : শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ১০০ দিনে বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ।

 

শনিবার (২৮ মার্চ) ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

‎
‎ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারহীনতার ১০০তম দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত বিচারের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন হয়নি। নতুন সরকার গঠনের পরও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা অর্থদাতা এবং মূল হোতা কারা—এসব বিষয় এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

 

‎তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি শহীদ হাদির হত্যার বিচার দাবিতে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করতে হবে। ইনসাফের স্বপ্নদ্রষ্টা হাদির জন্য প্রকৃত ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।
‎

 

‎আরও বক্তব্য রাখেন, আল তাওফিক লিখন, অন্দ্রিলা সরকার, আরিফ বিল্লাহ ও মাহফুজ খান।
‎

‎উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জুম্মার নামাজ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। বক্স কালভার্টের কাছে সংঘটিত এ হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।

 

‎তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে দাফন করা হয়।

 

‎ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

ওসমান হাদি হত্যার ১০০ দিন : ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের বিচার দাবি

Update Time : ০১:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
১৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক : শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ১০০ দিনে বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ।

 

শনিবার (২৮ মার্চ) ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

‎
‎ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারহীনতার ১০০তম দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত বিচারের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন হয়নি। নতুন সরকার গঠনের পরও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা অর্থদাতা এবং মূল হোতা কারা—এসব বিষয় এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

 

‎তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি শহীদ হাদির হত্যার বিচার দাবিতে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করতে হবে। ইনসাফের স্বপ্নদ্রষ্টা হাদির জন্য প্রকৃত ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।
‎

 

‎আরও বক্তব্য রাখেন, আল তাওফিক লিখন, অন্দ্রিলা সরকার, আরিফ বিল্লাহ ও মাহফুজ খান।
‎

‎উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জুম্মার নামাজ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। বক্স কালভার্টের কাছে সংঘটিত এ হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।

 

‎তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে দাফন করা হয়।

 

‎ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।