ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের নির্দেশের ২০ দিন পরও ভগ্নিপতির আঘাতে শ্যালক হত্যার মামলা নেয়নি ওসি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৩ Time View
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে শ্যালক ভগ্নিপতির মধ্যে দেনা-পাওনা বিরোধের জেরে সলেমান(৪০) নামে এক ব্যাক্তিকে ২২মে তারিখে সালিশ বৈঠকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আহতকে চিকিৎসা দেয়ার নামে পরিকল্পিত ভাবে মেরে স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে লাশ দাফনের অভিযোগ উঠে।
এ ঘটনায় দক্ষিন আইচা থানায় সলেমনের স্ত্রী রুমা অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের কাছে কোন বিচার না পেয়ে নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম বাদি হয়ে নিহতের ভগ্নিপতি বশির উল্যাহ মহাজনসহ ৫ জনকে বিবাদি করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর সি.আর ৫৯৩/২০২৬। বিজ্ঞ আদালত মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা না হয়ে থাকলে মামলা রুজু করে প্রতিবেদন দিতে দক্ষিণ আইচা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
আদালতে মামলার নথি সুত্রে জানা যায়, রুমা বেগম ১০জুন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত ওই দিনই দক্ষিন আইচা থানার ওসিকে অবিলম্বে আদেশের অনুলিপি ও নালিশের অনুলিপি পাঠাতে আদালত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।২৮জুন পরবর্তী মামলার তারিখ ধার্য রাখেন।
রুমা বেগমের অভিযোগ, তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর চাচড়া গ্রামের মো.আলমের ছেলে সলেমান(৪০) কে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তাদের দু’জনই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। সলেমনের সাবেক বাড়ি তজুমদ্দিন এবং স্ত্রীর রুমার বাড়ি লালমোহন এলাকায় হলেও বিয়ের পর থেকে তারা চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ৯ নং ওয়ার্ডের চর নলুয়া এলাকায় স্থায়ী বাড়ি তৈরী করে বসবাস শুরু করেন।
শালীর বৈঠকে হামলার কয়েকদিন পর তজুমদ্দিনের জনৈক ব্যক্তি মোবাইলে জানায়, তার স্বামী সলেমান মৃত্যু হয়েছে। তাকে দাফন করা হয়েছে তজুমদ্দিন নিজ বাড়ির এলাকায়। তবে কিভাবে মরলো, কোথায় দাফন করা হয়েছে স্ত্রী রুমা আজও জানেনা।
স্বামী  জীবিত, না মৃত, বা কোথায় দাফন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবের আশায় খোজ নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী, সমাজপতি ও থানা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও নিরুপায় রুমা আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত দক্ষিণ আইচা থানার ওসি কে মামলাটি রুজু করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। আদালতের আদেশের ২০ দিনেও মামলাটি থানায় রুজু ও তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি পুলিশ। এ মামলার ধার্য তারিখ ২৮জুনে থাকলেও রুমা বেগম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে নেয়া হয়নি তার হাজিরা। যার কারণে তিনি মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বশির উল্যাহকে কল করলে বিষয়টি সম্পুর্ন বিথ্যা বলে দাবী করে তিনি জানান, সলেমন নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরতে যায়। সেখানে তার শরিরে গোটার ব্যাথায় অসুস্থ হয়। সেখান থেকে নজরুলনগর গ্রামে ঝাড়ফুকে সুস্থ না হওয়ায় বরিশাল বিবির পুকুরপাড় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করাই। সুফল না পেয়ে বরিশাল শেবাচিমে ভর্তির প্রস্তুতিকালে ভর্তির টিকেট হাতে নিতেই তার অবস্থার অবনিত হলে এম্বুলেন্সে উঠাই। সেখানে তার মৃত্যু হয়। তাকে দাপন করা হয় তজুদ্দিন উপজেলার বাবার বাড়ির গোরস্তানে। দাফন কালে তার স্ত্রী যায়নি।
এ বিষয়ে গত ২৪ জুন মুটোফোনে দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইন সার্চ (ওসি) আহসান কবির জানান, মারামারি ও নিখোঁজের ঘটনায় রুমা বেগম বাদী হয়ে আমার কাছে একটি অভিযোগ করেছে। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছি। তদন্ত রিপোর্ট রেকর্ড করে জিডিও করেছি। তবে আদালতের মামলা হয়েছে বাদির কাছে শুনেছি। আমি হাতে পাইনি। আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত মামলা রুজু ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের নির্দেশের ২০ দিন পরও ভগ্নিপতির আঘাতে শ্যালক হত্যার মামলা নেয়নি ওসি

Update Time : ০৩:৪৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে শ্যালক ভগ্নিপতির মধ্যে দেনা-পাওনা বিরোধের জেরে সলেমান(৪০) নামে এক ব্যাক্তিকে ২২মে তারিখে সালিশ বৈঠকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আহতকে চিকিৎসা দেয়ার নামে পরিকল্পিত ভাবে মেরে স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে লাশ দাফনের অভিযোগ উঠে।
এ ঘটনায় দক্ষিন আইচা থানায় সলেমনের স্ত্রী রুমা অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের কাছে কোন বিচার না পেয়ে নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম বাদি হয়ে নিহতের ভগ্নিপতি বশির উল্যাহ মহাজনসহ ৫ জনকে বিবাদি করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর সি.আর ৫৯৩/২০২৬। বিজ্ঞ আদালত মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা না হয়ে থাকলে মামলা রুজু করে প্রতিবেদন দিতে দক্ষিণ আইচা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
আদালতে মামলার নথি সুত্রে জানা যায়, রুমা বেগম ১০জুন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত ওই দিনই দক্ষিন আইচা থানার ওসিকে অবিলম্বে আদেশের অনুলিপি ও নালিশের অনুলিপি পাঠাতে আদালত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।২৮জুন পরবর্তী মামলার তারিখ ধার্য রাখেন।
রুমা বেগমের অভিযোগ, তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর চাচড়া গ্রামের মো.আলমের ছেলে সলেমান(৪০) কে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। তাদের দু’জনই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। সলেমনের সাবেক বাড়ি তজুমদ্দিন এবং স্ত্রীর রুমার বাড়ি লালমোহন এলাকায় হলেও বিয়ের পর থেকে তারা চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ৯ নং ওয়ার্ডের চর নলুয়া এলাকায় স্থায়ী বাড়ি তৈরী করে বসবাস শুরু করেন।
শালীর বৈঠকে হামলার কয়েকদিন পর তজুমদ্দিনের জনৈক ব্যক্তি মোবাইলে জানায়, তার স্বামী সলেমান মৃত্যু হয়েছে। তাকে দাফন করা হয়েছে তজুমদ্দিন নিজ বাড়ির এলাকায়। তবে কিভাবে মরলো, কোথায় দাফন করা হয়েছে স্ত্রী রুমা আজও জানেনা।
স্বামী  জীবিত, না মৃত, বা কোথায় দাফন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবের আশায় খোজ নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী, সমাজপতি ও থানা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও নিরুপায় রুমা আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত দক্ষিণ আইচা থানার ওসি কে মামলাটি রুজু করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। আদালতের আদেশের ২০ দিনেও মামলাটি থানায় রুজু ও তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি পুলিশ। এ মামলার ধার্য তারিখ ২৮জুনে থাকলেও রুমা বেগম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে নেয়া হয়নি তার হাজিরা। যার কারণে তিনি মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বশির উল্যাহকে কল করলে বিষয়টি সম্পুর্ন বিথ্যা বলে দাবী করে তিনি জানান, সলেমন নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরতে যায়। সেখানে তার শরিরে গোটার ব্যাথায় অসুস্থ হয়। সেখান থেকে নজরুলনগর গ্রামে ঝাড়ফুকে সুস্থ না হওয়ায় বরিশাল বিবির পুকুরপাড় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করাই। সুফল না পেয়ে বরিশাল শেবাচিমে ভর্তির প্রস্তুতিকালে ভর্তির টিকেট হাতে নিতেই তার অবস্থার অবনিত হলে এম্বুলেন্সে উঠাই। সেখানে তার মৃত্যু হয়। তাকে দাপন করা হয় তজুদ্দিন উপজেলার বাবার বাড়ির গোরস্তানে। দাফন কালে তার স্ত্রী যায়নি।
এ বিষয়ে গত ২৪ জুন মুটোফোনে দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইন সার্চ (ওসি) আহসান কবির জানান, মারামারি ও নিখোঁজের ঘটনায় রুমা বেগম বাদী হয়ে আমার কাছে একটি অভিযোগ করেছে। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছি। তদন্ত রিপোর্ট রেকর্ড করে জিডিও করেছি। তবে আদালতের মামলা হয়েছে বাদির কাছে শুনেছি। আমি হাতে পাইনি। আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত মামলা রুজু ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।