ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব দেশকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ৮৫ Time View
১৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ছাড়া অন্যদের জন্য এই নৌপথ খোলা।

 

গত ২ মার্চ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে ‘জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধের আগে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ৬৫ ডলার, যা আজ সোমবার পর্যন্ত ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে ঠেকেছে।

 

গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সিবিএস নিউজকে জানান, বেশ কিছু দেশ নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বিস্তারিত না জানালেও বলেছেন, কিছু দেশের জাহাজকে ইতিমধ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘করাচি’ নামে একটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী অ্যাফরাম্যাক্স ট্যাংকার রোববার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

 

ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি জানিয়েছেন, অবরোধের মাঝেও ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু ভারতীয় জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা নিশ্চিত করেছেন, দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাংকার নিরাপদেই এই পথ পাড়ি দিয়েছে।

তুর্কি পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরে পণ্য খালাস করা একটি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজকে তেহরানের অনুমতিক্রমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হয়েছে। আরও ১৪টি জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় রয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অপরিশোধিত তেল আনার জন্য নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে চীন। বেইজিং তার চাহিদার ৪৫ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে পায়।

 

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর অনুযায়ী, ফ্রান্স ও ইতালি তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।

 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সচল করতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। গ্রিক সরকারও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক কার্যক্রমে জড়াবে না।

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা এই বিস্তৃত যুদ্ধে জড়াতে চাই না।

 

মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক রজার শানাহান আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই জোট সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ অধিকাংশ মিত্র দেশ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছিল। এ ছাড়া দূরবর্তী দেশগুলো থেকে এই অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করাও একটি কঠিন কাজ।

 

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এই রুটটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো তেল পরিবহন করে। তবে বর্তমানে প্রাণহানি ও জাহাজ ধ্বংসের ভয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব দেশকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান

Update Time : ০৩:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
১৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ছাড়া অন্যদের জন্য এই নৌপথ খোলা।

 

গত ২ মার্চ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে ‘জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধের আগে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ৬৫ ডলার, যা আজ সোমবার পর্যন্ত ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে ঠেকেছে।

 

গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সিবিএস নিউজকে জানান, বেশ কিছু দেশ নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বিস্তারিত না জানালেও বলেছেন, কিছু দেশের জাহাজকে ইতিমধ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘করাচি’ নামে একটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী অ্যাফরাম্যাক্স ট্যাংকার রোববার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

 

ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি জানিয়েছেন, অবরোধের মাঝেও ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু ভারতীয় জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা নিশ্চিত করেছেন, দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাংকার নিরাপদেই এই পথ পাড়ি দিয়েছে।

তুর্কি পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরে পণ্য খালাস করা একটি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজকে তেহরানের অনুমতিক্রমে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হয়েছে। আরও ১৪টি জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় রয়েছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অপরিশোধিত তেল আনার জন্য নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে চীন। বেইজিং তার চাহিদার ৪৫ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে পায়।

 

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবর অনুযায়ী, ফ্রান্স ও ইতালি তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।

 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সচল করতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। গ্রিক সরকারও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক কার্যক্রমে জড়াবে না।

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা এই বিস্তৃত যুদ্ধে জড়াতে চাই না।

 

মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক রজার শানাহান আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই জোট সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ অধিকাংশ মিত্র দেশ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছিল। এ ছাড়া দূরবর্তী দেশগুলো থেকে এই অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করাও একটি কঠিন কাজ।

 

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এই রুটটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো তেল পরিবহন করে। তবে বর্তমানে প্রাণহানি ও জাহাজ ধ্বংসের ভয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।