ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেবাচিম হাসপাতালে সন্তান জন্মের পর আইসিইউ না পেয়ে প্রসূতির মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৭ Time View
১৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কলি আক্তার (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও প্রয়োজনের সময় আইসিইউতে স্থান না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত কলি বেগম বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির বয়াতীর স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি পিরোজপুরে। সূত্রে আরও জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রসবজনিত কারণে কলি আক্তারকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের একটি গ্লাসে মাথা দিয়ে আঘাত করে সেটি ভেঙে ফেলেন মৃতের স্বামী সাব্বির বয়াতী। এ সময় হাসপাতালের আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে রাখেন। পরে হাসপাতালের সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুবরনকারী রোগীর স্বামীর কাছ থেকে কোনো জরিমানা আদায় করা হয়নি। সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী মেরামত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মৃতের স্বামী সাব্বির বয়াতী অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রীর চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন থাকলেও আইসিইউতে স্থান দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মোনামেম সাদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউর সংকট রয়েছে। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি বেড রয়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত রোগীকে আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালে আইসিইউ বেড বাড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মৃত রোগীর স্বামীর কাছ থেকে কোনো জরিমানা আদায় করা হয়নি। তবে সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসটি মেরামত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে তারা চলে গেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

শেবাচিম হাসপাতালে সন্তান জন্মের পর আইসিইউ না পেয়ে প্রসূতির মৃত্যু

Update Time : ০১:১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
১৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কলি আক্তার (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও প্রয়োজনের সময় আইসিইউতে স্থান না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত কলি বেগম বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির বয়াতীর স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি পিরোজপুরে। সূত্রে আরও জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রসবজনিত কারণে কলি আক্তারকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের একটি গ্লাসে মাথা দিয়ে আঘাত করে সেটি ভেঙে ফেলেন মৃতের স্বামী সাব্বির বয়াতী। এ সময় হাসপাতালের আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে রাখেন। পরে হাসপাতালের সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুবরনকারী রোগীর স্বামীর কাছ থেকে কোনো জরিমানা আদায় করা হয়নি। সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী মেরামত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মৃতের স্বামী সাব্বির বয়াতী অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রীর চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন থাকলেও আইসিইউতে স্থান দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মোনামেম সাদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউর সংকট রয়েছে। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি বেড রয়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত রোগীকে আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালে আইসিইউ বেড বাড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মৃত রোগীর স্বামীর কাছ থেকে কোনো জরিমানা আদায় করা হয়নি। তবে সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসটি মেরামত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে তারা চলে গেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।