ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে কর্মচারী নিয়োগে জালিয়াতি, অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ২ Time View

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল, ভুয়া চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং ফলাফলসীট তৈরির মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মুসলিমিয়া আলিম সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর এমপিও সাময়িক স্থগিত করেছে মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তর। একইসঙ্গে জালিয়াতির অপরাধে তার এমপিও কেনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার (২৯ জুন) মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের অর্থশাখা থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে কারণ দর্শানো হয় তাকে। সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির গুরুতর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও যাচাই-বাছাইকালে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মুসলিমিয়া আলিম সিনিয়র মাদরাসার অফিস সহকারী কামকম্পিউটার অপারেটর পদে মো. শাকিল নামে এক ব্যক্তির নতুন এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন প্রেরণ করে অধ্যক্ষ। তবে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ওই আবেদনটি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখেন- এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের প্রতিনিধির জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড এবং ভুয়া ফলাফল বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।

 

এ জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর বেতন ভাতা (এমপিও) সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ অপরাধে কেনো তার এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না তার যথাযথ জবাব দিতেও বলা হয়।

এরআগে, ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ একই প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করায় এমপিওসীট থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম কর্তন করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষের বেতন স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে মুসলিমিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরী বলেন, তদবির ছাড়া বিল পাঠালে তারা এ রকমই করেন। কারণ দর্শানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে।

লালমোহন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম খায়রুল কবির জানান, আমি দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি। অনলাইনে প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করার পর সময় স্বল্পতার কারণে আমার একার পক্ষে সবগুলো ফাইল ভালোভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কারণ দর্শানোর বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে কর্মচারী নিয়োগে জালিয়াতি, অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত

Update Time : ০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল, ভুয়া চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন এবং ফলাফলসীট তৈরির মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মুসলিমিয়া আলিম সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর এমপিও সাময়িক স্থগিত করেছে মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তর। একইসঙ্গে জালিয়াতির অপরাধে তার এমপিও কেনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার (২৯ জুন) মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের অর্থশাখা থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে কারণ দর্শানো হয় তাকে। সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির গুরুতর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও যাচাই-বাছাইকালে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মুসলিমিয়া আলিম সিনিয়র মাদরাসার অফিস সহকারী কামকম্পিউটার অপারেটর পদে মো. শাকিল নামে এক ব্যক্তির নতুন এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন প্রেরণ করে অধ্যক্ষ। তবে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ওই আবেদনটি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখেন- এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষাঅধিদপ্তরের প্রতিনিধির জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড এবং ভুয়া ফলাফল বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।

 

এ জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরীর বেতন ভাতা (এমপিও) সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ অপরাধে কেনো তার এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না তার যথাযথ জবাব দিতেও বলা হয়।

এরআগে, ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ একই প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করায় এমপিওসীট থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম কর্তন করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষের বেতন স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে মুসলিমিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন জাফরী বলেন, তদবির ছাড়া বিল পাঠালে তারা এ রকমই করেন। কারণ দর্শানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে।

লালমোহন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম খায়রুল কবির জানান, আমি দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি। অনলাইনে প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করার পর সময় স্বল্পতার কারণে আমার একার পক্ষে সবগুলো ফাইল ভালোভাবে দেখা সম্ভব হয় না। কারণ দর্শানোর বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি।