ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজপথের ধুলো থেকে সংসদের আসনে : রাজিব আহসান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ Time View
১১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা মিছিলের স্লোগান, তপ্ত রাজপথ আর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই-এই তিনের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক নাম রাজিব আহসান। দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। যা কেবল এক ব্যক্তির উত্থান নয়, বরং মাঠপর্যায়ের রাজনীতির এক অনন্য বিজয়গাথা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. রাজিব আহসান। রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং বহুবার কারাবরণকারী এই জনপ্রিয় নেতাকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা এই দুই উপজেলাতেই রাজিব আহসান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় রাজিব আহসান পেয়েছেন ৮৬,৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৩,১৯১ ভোট।

হিজলা উপজেলায়ও রাজিব আহসানের জয়জয়কার। তিনি পেয়েছেন ৪০,২৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ১৯,৬০১ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (দাঁড়িপাল্লা) দুই উপজেলা মিলিয়ে পেয়েছেন ৭২,৭৯২ ভোট। দুই উপজেলা মিলিয়ে রাজিব আহসান মোট ১,২৭,১৯২ ভোট পেয়ে অর্থাৎ, প্রায় ৫৪,৪০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪,২১,৯৭৫ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালট ব্যতীত ভোটার ছিলেন ৪,১৭,৫২১ জন। নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে মেহেন্দীগঞ্জ অংশে ৫৬.৫৪% এবং হিজলা অংশে ৬০.৫৩% ভোট কাস্টিং হয়েছে। মো. রাজিব আহসান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার মানুষের কাছে সাহসের প্রতীক। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ মনে করেন, রাজিব আহসানের এই জয় তার দীর্ঘ ত্যাগের ও রাজপথের লড়াইয়ের স্বীকৃতি। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা একজন প্রকৃত জননেতাকে বেছে নিয়েছি যিনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।

বরিশাল-৪ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মো. রাজিব আহসান এখন মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ‘নতুন মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা’ গড়ার প্রত্যয় নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজিব আহসান জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে সকল বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। তার উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল: নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ।

স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলাকায় আধুনিক আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক ও ব্রিজগুলোর সংস্কার করে মূল ভূখণ্ডের সাথে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা কায়েম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর।

ছাত্ররাজনীতির স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। বহুবার কারাবরণ এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আজ সেই ‘কারাবরণকারী’ ছাত্রনেতাকে এলাকার অভিভাবক হিসেবে পেয়ে সাধারণ ভোটাররা আবেগাপ্লুত।

বিজয়ী হওয়ার পর স্থানীয় এক প্রবীণ ভোটার বলেন, “রাজিব আমাদের ঘরের ছেলে। সে রাজপথে মার খেয়েছে, জেল খেটেছে কিন্তু আমাদের ছেড়ে যায়নি। আজ ব্যালটের মাধ্যমে আমরা তার সেই ত্যাগের ঋণ শোধ করলাম।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

রাজপথের ধুলো থেকে সংসদের আসনে : রাজিব আহসান

Update Time : ১০:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা মিছিলের স্লোগান, তপ্ত রাজপথ আর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই-এই তিনের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক নাম রাজিব আহসান। দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। যা কেবল এক ব্যক্তির উত্থান নয়, বরং মাঠপর্যায়ের রাজনীতির এক অনন্য বিজয়গাথা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. রাজিব আহসান। রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং বহুবার কারাবরণকারী এই জনপ্রিয় নেতাকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা এই দুই উপজেলাতেই রাজিব আহসান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় রাজিব আহসান পেয়েছেন ৮৬,৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৩,১৯১ ভোট।

হিজলা উপজেলায়ও রাজিব আহসানের জয়জয়কার। তিনি পেয়েছেন ৪০,২৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ১৯,৬০১ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (দাঁড়িপাল্লা) দুই উপজেলা মিলিয়ে পেয়েছেন ৭২,৭৯২ ভোট। দুই উপজেলা মিলিয়ে রাজিব আহসান মোট ১,২৭,১৯২ ভোট পেয়ে অর্থাৎ, প্রায় ৫৪,৪০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪,২১,৯৭৫ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালট ব্যতীত ভোটার ছিলেন ৪,১৭,৫২১ জন। নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে মেহেন্দীগঞ্জ অংশে ৫৬.৫৪% এবং হিজলা অংশে ৬০.৫৩% ভোট কাস্টিং হয়েছে। মো. রাজিব আহসান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার মানুষের কাছে সাহসের প্রতীক। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ মনে করেন, রাজিব আহসানের এই জয় তার দীর্ঘ ত্যাগের ও রাজপথের লড়াইয়ের স্বীকৃতি। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা একজন প্রকৃত জননেতাকে বেছে নিয়েছি যিনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।

বরিশাল-৪ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মো. রাজিব আহসান এখন মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ‘নতুন মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা’ গড়ার প্রত্যয় নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজিব আহসান জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে সকল বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। তার উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল: নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ।

স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলাকায় আধুনিক আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক ও ব্রিজগুলোর সংস্কার করে মূল ভূখণ্ডের সাথে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা কায়েম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর।

ছাত্ররাজনীতির স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। বহুবার কারাবরণ এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আজ সেই ‘কারাবরণকারী’ ছাত্রনেতাকে এলাকার অভিভাবক হিসেবে পেয়ে সাধারণ ভোটাররা আবেগাপ্লুত।

বিজয়ী হওয়ার পর স্থানীয় এক প্রবীণ ভোটার বলেন, “রাজিব আমাদের ঘরের ছেলে। সে রাজপথে মার খেয়েছে, জেল খেটেছে কিন্তু আমাদের ছেড়ে যায়নি। আজ ব্যালটের মাধ্যমে আমরা তার সেই ত্যাগের ঋণ শোধ করলাম।”