ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে মুমিনের মৃত্যুকষ্ট হয় অনলাইন ডেস্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৯ Time View
২১৬

ইসলাম ডেস্ক : মৃত্যু—মানবজীবনের এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যা থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কিন্তু এই অনিবার্য মুহূর্তকে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন জাগে, বিশেষ করে মুমিনদের ক্ষেত্রে—কেন তাদেরও মৃত্যুকষ্ট ভোগ করতে হয়? যাদের জীবন ঈমান, আমল ও তাকওয়ায় ভরপুর, তাদের জন্য কি মৃত্যু সহজ হওয়ার কথা নয়? অথচ হাদিসে আমরা দেখি, নবী করিম (সা.) নিজেও মৃত্যুযন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করেছেন।

 

এই বিষয়টি আমাদের ভাবতে শেখায়—মৃত্যুকষ্ট কি আসলে শাস্তি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য ও রহমত?

 

একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত মৃত্যুর সময় মহানবী (সা.)-এর শারীরিক কষ্ট হয়েছিল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখেছি একটি পানিভর্তি বাটি তার সামনে রাখা ছিল।

 

তিনি সেই বাটিতে তার হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল মলছিলেন। আর বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ, মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমায় সহায়তা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৯৭৮)
কিন্তু মুমিনের কেন মৃত্যুর সময় কষ্ট হয়। এ বিষয়ে এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হন।

 

তখন তাঁর এক নিকটতম প্রতিবেশী মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। নবী (সা.) তাকে চিন্তিত দেখে বলেন, ‘তোমার প্রতিবেশীর কারণে তুমি চিন্তিত হয়ো না। কেননা এটা সৎকর্মগুলোর অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৫১)

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, মুমিনের মৃত্যুযন্ত্রণা তার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যখন কোনো মুমিনের জন্য কোনো মর্যাদার স্তর নির্ধারণ করেন এবং নিজ আমল দ্বারা যদি তা অর্জন করতে না পারে, তখন আল্লাহ তাঁর শরীর বা তাঁর সম্পদ অথবা তাঁর সন্তানদের বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর মুমিন ধৈর্যধারণ করার ফলে সে পূর্বনির্ধারিত মর্যাদার স্তরে পৌঁছে যায়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩০৯০)

অতএব, মুমিনের মৃত্যুকষ্ট কোনো অভিশাপ নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়া। এই কষ্টের মাধ্যমে মুমিনের গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সে আখিরাতের উচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত এই সত্য উপলব্ধি করে ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে জীবনযাপন করা, যেন শেষ মুহূর্তটিও হয় তার জন্য কল্যাণময় ও সফলতার সোপান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

যে কারণে মুমিনের মৃত্যুকষ্ট হয় অনলাইন ডেস্ক

Update Time : ০৮:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
২১৬

ইসলাম ডেস্ক : মৃত্যু—মানবজীবনের এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যা থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কিন্তু এই অনিবার্য মুহূর্তকে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন জাগে, বিশেষ করে মুমিনদের ক্ষেত্রে—কেন তাদেরও মৃত্যুকষ্ট ভোগ করতে হয়? যাদের জীবন ঈমান, আমল ও তাকওয়ায় ভরপুর, তাদের জন্য কি মৃত্যু সহজ হওয়ার কথা নয়? অথচ হাদিসে আমরা দেখি, নবী করিম (সা.) নিজেও মৃত্যুযন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করেছেন।

 

এই বিষয়টি আমাদের ভাবতে শেখায়—মৃত্যুকষ্ট কি আসলে শাস্তি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য ও রহমত?

 

একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত মৃত্যুর সময় মহানবী (সা.)-এর শারীরিক কষ্ট হয়েছিল। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখেছি একটি পানিভর্তি বাটি তার সামনে রাখা ছিল।

 

তিনি সেই বাটিতে তার হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল মলছিলেন। আর বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ, মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমায় সহায়তা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৯৭৮)
কিন্তু মুমিনের কেন মৃত্যুর সময় কষ্ট হয়। এ বিষয়ে এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হন।

 

তখন তাঁর এক নিকটতম প্রতিবেশী মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। নবী (সা.) তাকে চিন্তিত দেখে বলেন, ‘তোমার প্রতিবেশীর কারণে তুমি চিন্তিত হয়ো না। কেননা এটা সৎকর্মগুলোর অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৫১)

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, মুমিনের মৃত্যুযন্ত্রণা তার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যখন কোনো মুমিনের জন্য কোনো মর্যাদার স্তর নির্ধারণ করেন এবং নিজ আমল দ্বারা যদি তা অর্জন করতে না পারে, তখন আল্লাহ তাঁর শরীর বা তাঁর সম্পদ অথবা তাঁর সন্তানদের বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর মুমিন ধৈর্যধারণ করার ফলে সে পূর্বনির্ধারিত মর্যাদার স্তরে পৌঁছে যায়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩০৯০)

অতএব, মুমিনের মৃত্যুকষ্ট কোনো অভিশাপ নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়া। এই কষ্টের মাধ্যমে মুমিনের গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সে আখিরাতের উচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত এই সত্য উপলব্ধি করে ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে জীবনযাপন করা, যেন শেষ মুহূর্তটিও হয় তার জন্য কল্যাণময় ও সফলতার সোপান।