ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় তছনছ মার্কিন বাহিনীর ২২৮ স্থাপনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৮৯ Time View
২০৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য পেন্টাগন গোপন করার চেষ্টা করছে, তা ফাঁস করে দিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। পত্রিকাটির এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিখুঁত বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।’

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ পর্যন্ত করা কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-ও ১৬টি ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এই পরিসংখ্যান পেন্টাগনের জন্য এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

হুমকি শেষ হলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি: আইআরজিসি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্রমাগত বিমান হামলার হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ঘাঁটি এখন মার্কিন সেনাদের স্বাভাবিকভাবে মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে মার্কিন কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি মিসাইলের সীমানার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছেন।

ইরানে হামলার সুযোগের অপেক্ষায় ইসরায়েল, লক্ষ্য তেল শোধনাগার
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন (২,৫০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধে যে পরিমাণ গোলাবরুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে, তা পুনরায় তৈরি বা সংগ্রহ করতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। এই ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট চেয়েছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

তবে মার্কিন সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্রকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যুদ্ধ শেষ হলে সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় তছনছ মার্কিন বাহিনীর ২২৮ স্থাপনা

Update Time : ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
২০৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য পেন্টাগন গোপন করার চেষ্টা করছে, তা ফাঁস করে দিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। পত্রিকাটির এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিখুঁত বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।’

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ পর্যন্ত করা কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-ও ১৬টি ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এই পরিসংখ্যান পেন্টাগনের জন্য এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

হুমকি শেষ হলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি: আইআরজিসি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্রমাগত বিমান হামলার হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ঘাঁটি এখন মার্কিন সেনাদের স্বাভাবিকভাবে মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে মার্কিন কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি মিসাইলের সীমানার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছেন।

ইরানে হামলার সুযোগের অপেক্ষায় ইসরায়েল, লক্ষ্য তেল শোধনাগার
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন (২,৫০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধে যে পরিমাণ গোলাবরুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে, তা পুনরায় তৈরি বা সংগ্রহ করতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। এই ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট চেয়েছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

তবে মার্কিন সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্রকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যুদ্ধ শেষ হলে সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট