ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাব্যতা সংকটে হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ২১৯ Time View
৩৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : নাব্যতা সংকটে হুমকির মুখে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ। গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৯০ লাখ ঘনমিটার নদীখনন করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে জ্বালানি খরচ তেমনি সময়। আর ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে বরিশাল অঞ্চলের নদীপথ ঘুরে দেখা যায়, কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া অংশে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। ফলে বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। শুধু চরবাড়িয়া অংশই নয় বামনী, মিয়ারচর কিংবা লালুর চরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৮-১০টি স্থানে পানির গভীরতা এখন ৪ থেকে ৫ ফুটের নিচে। লঞ্চ মাস্টারদের অভিযোগ নামমাত্র ড্রেজিংয়ে কোনো সুফল মিলছে না বরং ভোগান্তির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে সময় ও জ্বালানীর।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলা শুভরাজ-৯ লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার বেলাল জানান, ঢাকা-বরিশাল নৌপথের শুধু বরিশাল জেলার নদী অতিক্রমকালে ৮ থেকে ১০ স্থানে নাব্যতা সংকটে পরতে হয়। এতে ভোগান্তিতে যেমন পড়তে হয়। তেমনি সময়মতো গন্তব্য পৌঁছানো হয়ে পড়ে কষ্টসাধ্য।

 

অভ্যন্তরীণ নৌরুটে চলা সঞ্চিতা লঞ্চের চালক জানান, প্রতি বছরই নদীতে ড্রেজিং হয়। কিন্তু তা কোনো কাজেই আসে না। আর ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। নাব্যতা সংকটের কারণে ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। ফলে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে।

 

ড্রেজিং বিভাগ বরিশালের নথি বলছে, গত তিন অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে নদীখনন করা হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ ঘনমিটার। যার মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খনন হয়েছে ৩১ লাখ ঘনমিটার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে খনন হয়েছে ২৫ লাখ ঘনমিটার, আর ২৪-২৫ অর্থবছরে খনন করা হয়েছে ২৯ লাখ ঘন মিটার। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। কিন্তু তারপরও মিলছে না প্রকৃত সুফল।

 

যদিও ড্রেজিং বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, চাহিদা অনুযায়ী ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান থাকে। নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলমান রয়েছে। ড্রেজিং করা হয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায়।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের সমন্বয়কারী মো. রফিকুল আলমের মতে, ক্যাপিটাল ও মেইনটেইনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে ড্রেজিং প্রক্র‍িয়ায় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীকে কৌশলের কারণে অনেকক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

 

এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৪২টি নদ-নদীর ৬২৯ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে; যা নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

নাব্যতা সংকটে হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ!

Update Time : ১০:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
৩৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : নাব্যতা সংকটে হুমকির মুখে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ। গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৯০ লাখ ঘনমিটার নদীখনন করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে জ্বালানি খরচ তেমনি সময়। আর ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে বরিশাল অঞ্চলের নদীপথ ঘুরে দেখা যায়, কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া অংশে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। ফলে বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। শুধু চরবাড়িয়া অংশই নয় বামনী, মিয়ারচর কিংবা লালুর চরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৮-১০টি স্থানে পানির গভীরতা এখন ৪ থেকে ৫ ফুটের নিচে। লঞ্চ মাস্টারদের অভিযোগ নামমাত্র ড্রেজিংয়ে কোনো সুফল মিলছে না বরং ভোগান্তির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে সময় ও জ্বালানীর।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলা শুভরাজ-৯ লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার বেলাল জানান, ঢাকা-বরিশাল নৌপথের শুধু বরিশাল জেলার নদী অতিক্রমকালে ৮ থেকে ১০ স্থানে নাব্যতা সংকটে পরতে হয়। এতে ভোগান্তিতে যেমন পড়তে হয়। তেমনি সময়মতো গন্তব্য পৌঁছানো হয়ে পড়ে কষ্টসাধ্য।

 

অভ্যন্তরীণ নৌরুটে চলা সঞ্চিতা লঞ্চের চালক জানান, প্রতি বছরই নদীতে ড্রেজিং হয়। কিন্তু তা কোনো কাজেই আসে না। আর ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। নাব্যতা সংকটের কারণে ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। ফলে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে।

 

ড্রেজিং বিভাগ বরিশালের নথি বলছে, গত তিন অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে নদীখনন করা হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ ঘনমিটার। যার মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খনন হয়েছে ৩১ লাখ ঘনমিটার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে খনন হয়েছে ২৫ লাখ ঘনমিটার, আর ২৪-২৫ অর্থবছরে খনন করা হয়েছে ২৯ লাখ ঘন মিটার। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। কিন্তু তারপরও মিলছে না প্রকৃত সুফল।

 

যদিও ড্রেজিং বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, চাহিদা অনুযায়ী ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান থাকে। নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলমান রয়েছে। ড্রেজিং করা হয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায়।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের সমন্বয়কারী মো. রফিকুল আলমের মতে, ক্যাপিটাল ও মেইনটেইনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে ড্রেজিং প্রক্র‍িয়ায় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীকে কৌশলের কারণে অনেকক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

 

এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৪২টি নদ-নদীর ৬২৯ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে; যা নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।