ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই অসুস্থ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৩ Time View
২৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট হাসপাতালে পর্যাপ্ত না থাকার কারণে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এসব কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও দুর্ভোগে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

 

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের জন্য শুধুমাত্র স্যালাইন পাওয়া গেলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতালে মজুত নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়ছেন।

 

হাসপাতালে ভর্তি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সোহেল (২৫) নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে।

 

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেকজন রোগীর স্বজন রিনা অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

 

জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা রোগী সজিব (২৭) বলেন, “আমি কয়েকদিন ধরে ভর্তি আছি, প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

 

শুধু তাই নয়, বহুদিন ধরে মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা সাধারণত পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দম্পতিদের মধ্যে বিলি করেন। এগুলো হলো কনডম, খাওয়ার বড়ি, আইইউডি, ইনজেক্টেবলস ও ইমপ্ল্যান্ট। কনডম ছাড়া বাকি সামগ্রীগুলো নারীদের ব্যবহারের জন্য। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কনডম ও বড়ি। অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবে, প্রতি মাসে মাঠকর্মীরা ৫০ লাখ ৩৫ হাজার কনডম ও ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার সাইকেল বড়ি দম্পতিদের কাছে পৌঁছে দেন। এই জিনিসগুলো চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

 

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, ‘এসব কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়, এ বছর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিচালকের কাছে অ্যাপ্রুভালের জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেখানে একটু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখনো এগুলো ক্রয় করা হয়নি। তার পরেও বিভিন্ন উৎস থেকে এগুলো সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে যাবে এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে এই জিনিসগুলো ব্যবস্থা করতে পারব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই অসুস্থ!

Update Time : ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
২৬৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট হাসপাতালে পর্যাপ্ত না থাকার কারণে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এসব কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও দুর্ভোগে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

 

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের জন্য শুধুমাত্র স্যালাইন পাওয়া গেলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতালে মজুত নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়ছেন।

 

হাসপাতালে ভর্তি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সোহেল (২৫) নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে।

 

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আরেকজন রোগীর স্বজন রিনা অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

 

জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা রোগী সজিব (২৭) বলেন, “আমি কয়েকদিন ধরে ভর্তি আছি, প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

 

শুধু তাই নয়, বহুদিন ধরে মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা সাধারণত পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দম্পতিদের মধ্যে বিলি করেন। এগুলো হলো কনডম, খাওয়ার বড়ি, আইইউডি, ইনজেক্টেবলস ও ইমপ্ল্যান্ট। কনডম ছাড়া বাকি সামগ্রীগুলো নারীদের ব্যবহারের জন্য। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কনডম ও বড়ি। অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবে, প্রতি মাসে মাঠকর্মীরা ৫০ লাখ ৩৫ হাজার কনডম ও ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার সাইকেল বড়ি দম্পতিদের কাছে পৌঁছে দেন। এই জিনিসগুলো চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

 

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, ‘এসব কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়, এ বছর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিচালকের কাছে অ্যাপ্রুভালের জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেখানে একটু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখনো এগুলো ক্রয় করা হয়নি। তার পরেও বিভিন্ন উৎস থেকে এগুলো সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে যাবে এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে এই জিনিসগুলো ব্যবস্থা করতে পারব।