ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থের বিনিময়ে সরকারি আগাম তথ্য বিক্রি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪৮ Time View
২৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন একটি আইনি সংকট তৈরি হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ টাকার বিনিময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের আগে ধনীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

 

‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ এবং ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’ নামের দুটি সংস্থা এই মামলাটি করেছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাংবিধানিক।

 

মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন বা গ্রাহক সেবা। এই সেবার আওতায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি মাসে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) ফি দেয়, তবে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের পোস্ট বা সরকারি ঘোষণা সাধারণ জনগণের আগেই দেখতে পাবেন।

 

ধরা যাক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তেলের ওপর নতুন কোনো শুল্ক বা ট্যাক্স আরোপ করবেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এই খবরটি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করবেন। কিন্তু যারা মাসে ১ লাখ ডলার দিয়ে ‘ভিআইপি’ গ্রাহক হয়েছেন, তারা এই খবরটি সাধারণ মানুষের কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড আগেই পেয়ে যাবেন। এই সামান্য সময়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ী বা শেয়ার বাজারের ব্রোকাররা তেলের শেয়ার কেনাবেচা করে কোটি কোটি টাকা লাভ করে নিতে পারবেন। যখন সাধারণ মানুষ খবরটি জানতে পারবে, ততক্ষণে বড় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে নিজেদের ফায়দা লুটে নেবেন।

যেহেতু ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটির বড় মালিক, তাই এই সাবস্ক্রিপশন থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি তার প্রতিষ্ঠানেই যাচ্ছে। ট্রাম্প মিডিয়ার কর্মকর্তারাও এটিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রচার করছেন।

 

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক সংবাদমাধ্যম এবং ট্রেডিং ফার্ম এই সেবাটি কিনেছে বলে জানা গেছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা এর কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে ধনীদের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

মামলাকারীরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে, যতদিন অর্থের বিনিময়ে এমন বিশেষ সুবিধা বিক্রি করা হবে, ততদিন পর্যন্ত সরকারি ঘোষণার কাজে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প মিডিয়া এখনো এই মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

অর্থের বিনিময়ে সরকারি আগাম তথ্য বিক্রি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৪:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
২৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন একটি আইনি সংকট তৈরি হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ টাকার বিনিময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের আগে ধনীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

 

‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ এবং ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’ নামের দুটি সংস্থা এই মামলাটি করেছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাংবিধানিক।

 

মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন বা গ্রাহক সেবা। এই সেবার আওতায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি মাসে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) ফি দেয়, তবে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের পোস্ট বা সরকারি ঘোষণা সাধারণ জনগণের আগেই দেখতে পাবেন।

 

ধরা যাক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তেলের ওপর নতুন কোনো শুল্ক বা ট্যাক্স আরোপ করবেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এই খবরটি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করবেন। কিন্তু যারা মাসে ১ লাখ ডলার দিয়ে ‘ভিআইপি’ গ্রাহক হয়েছেন, তারা এই খবরটি সাধারণ মানুষের কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড আগেই পেয়ে যাবেন। এই সামান্য সময়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ী বা শেয়ার বাজারের ব্রোকাররা তেলের শেয়ার কেনাবেচা করে কোটি কোটি টাকা লাভ করে নিতে পারবেন। যখন সাধারণ মানুষ খবরটি জানতে পারবে, ততক্ষণে বড় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে নিজেদের ফায়দা লুটে নেবেন।

যেহেতু ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটির বড় মালিক, তাই এই সাবস্ক্রিপশন থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি তার প্রতিষ্ঠানেই যাচ্ছে। ট্রাম্প মিডিয়ার কর্মকর্তারাও এটিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রচার করছেন।

 

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক সংবাদমাধ্যম এবং ট্রেডিং ফার্ম এই সেবাটি কিনেছে বলে জানা গেছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা এর কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে ধনীদের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

মামলাকারীরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে, যতদিন অর্থের বিনিময়ে এমন বিশেষ সুবিধা বিক্রি করা হবে, ততদিন পর্যন্ত সরকারি ঘোষণার কাজে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প মিডিয়া এখনো এই মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।