নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গলাচিপা জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের গরমিল, অনুমাননির্ভর বিল তৈরি এবং বিল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা দাবি করেছেন, প্রকৃত মিটার রিডিং যাচাই না করে অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হচ্ছে, ফলে তাদের বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

 

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় প্রায় ৮২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়মতো মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হয়। পরে কয়েক মাসের হিসাব একত্রে সমন্বয় করায় গ্রাহকদের একসঙ্গে বেশি বিল পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া বিল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় বিল জমার শেষ তারিখের আগের দিন গ্রাহকদের হাতে বিল পৌঁছায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি না দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে একসঙ্গে বিল রেখে দেওয়া হয়।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের গ্রাহক জাহাঙ্গীর মৃধা অভিযোগ করেন, তার হাতে পাওয়া সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলে ৬ জুন পর্যন্ত ৪৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২১ জুন মিটারে গিয়ে তিনি দেখেন রিডিং রয়েছে মাত্র ৪৩০ ইউনিট। অর্থাৎ বিলের হিসাবে ব্যবহারের চেয়ে ৬০ ইউনিট বেশি দেখানো হয়েছে। পরে তিনি মিটারের বর্তমান রিডিংয়ের ছবি নিয়ে গলাচিপা জোনাল অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ নতুন করে বিল সংশোধন করে দেয়। তবে এতে তাকে দেড় মাসের বিল একসঙ্গে পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মিত মিটার রিডিং না নেওয়ার কারণে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, গরমের মৌসুমে তার গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ২১৫ ইউনিট হলেও জুন মাসের বিলে ৩০০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। অথচ ৩ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ১৯ দিনে তার মিটারে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৯০ ইউনিট। অভিযোগ নিয়ে জোনাল অফিসে গেলে ডিজিএম তাকে ৫০ ইউনিট কমিয়ে নতুন বিল দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি এতে সম্মত হননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও অনেক সময় কোনো সুরাহা পাওয়া যায় না।

 

রতনদী এলাকার গ্রাহক ইসরাত জাহান কনিকা জানান, এপ্রিল মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ১৬৫ ইউনিট এবং মে মাসে ২০০ ইউনিট। কিন্তু জুন মাসে বিলে ২৯০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। অথচ ৮ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনে তার মিটারে ব্যবহার হয়েছে মাত্র ৪৯ ইউনিট। তার দাবি, সঠিকভাবে মিটার রিডিং যাচাই না করায় অতিরিক্ত ইউনিট দেখানো হচ্ছে, যার ফলে ইউনিটভিত্তিক বেশি বিল গুনতে হচ্ছে।

 

গলাচিপা পৌরসভার ফিডার রোড এলাকার বাসিন্দা আলী আজগর বলেন, পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না এলেও তার বিলে ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ‘ভুতুড়ে বিল’ বলে উল্লেখ করেন।

গ্রাহক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বিল পরিশোধের মাত্র দুই দিন আগে বিলের কাগজ হাতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি পড়লে সময়মতো বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

অভিযোগের বিষয়ে গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, “এই মাসে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, “অভিযোগগুলো লিখিতভাবে জমা দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।