নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল: ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য এবং গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুর ও গুড়িয়ে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনের বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। কর্মসূচিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকুল চন্দ্র মুখার্জি, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব সিংহ বর্মন, ব্রাহ্মণ যুব কিশোর সংসদের সভাপতি হৃদয় চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মিলন চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমন্বয় সিংহ বর্মনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাস্যকে নিয়ে কটূক্তি কিংবা অবমাননা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। বক্তাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নানা ধরনের নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং তাদের ওপর চলমান নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হোক। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মানববন্ধন শেষে দুপুর ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধ করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা দেশের সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।