নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বসতবাড়ি থেকে একটি বিষধর শঙ্খিনী (ব্যান্ডেড ক্রেট) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত ১টা ২৬ মিনিটে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল খানের বাসা থেকে ওই সাপটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, বাসার ভেতরে সাপটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রমের হটলাইন নম্বরে কল দেয়া হয়। এরপর সংগঠনটির সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী এবং কলাপাড়া উপজেলা টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সাপটি ঘরের একটি জটিল স্থানে অবস্থান করায় দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে সফলভাবে শঙ্খিনী সাপটি উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়।

 

বাড়ির মালিক ও আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল খান বলেন, ‘রাতে বাসার ভেতরে সাপটি দেখতে পেয়ে আমরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে দ্রুত অ্যানিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করি। খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মী বায়জিদ মুন্সী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ সময় ধরে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত সাড়া ও দক্ষতার কারণে আমরা একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। এজন্য আমি অ্যানিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

উদ্ধারকারী বায়জিদ মুন্সী বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া সাপটি শঙ্খিনী (ব্যান্ডেড ক্রেট), যার বৈজ্ঞানিক নাম বানগারাস ফেজিয়াটটুস। এটি বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ হলেও সাধারণত শান্ত স্বভাবের এবং অকারণে মানুষকে আক্রমণ করে না। কালো ও হলুদ রঙের আড়াআড়ি ডোরার কারণে সাপটি সহজেই শনাক্ত করা যায়।’

 

তিনি আরও জানান, শঙ্খিনী একটি নিশাচর সাপ। এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি অন্যান্য সাপ শিকার করে খেতে পছন্দ করে। এ ছাড়া ব্যাঙ, টিকটিকি ও ছোট সরিসৃপও এর খাদ্যতালিকায় রয়েছে। প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

অনেক সময় খাবারের সন্ধানে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এসব সাপ লোকালয়ে প্রবেশ করে। তবে লোকালয়ে চলে এলেই সাপটি আক্রমণ করবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা মানুষকে এড়িয়ে চলতে চায়। সাপ আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সাপ দেখলেই হত্যা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের খবর দেয়া উচিত বলে জানান বায়জিদ মুন্সী।